বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩৬১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ঈশ্বরের ভর
৩৫৭

সমস্যার সমাধানের আশায়। এখানে শনি-মঙ্গলে বিজলী চক্রবর্তীর ওপর মা তারার ভয় হয়, অর্থাৎ সহজ-সরল অর্থে ঈশ্বর তারা মা ভক্তদের আর্জি মতো প্রশ্নের উত্তর, সমাধানের উপায় বাতলান মিডিয়াম বিজলী চক্রবর্তীর মাধ্যমে।

 ৩০-৩৫ বছর আগে স্বপ্নে তারা মূর্তি দেখেন বিজলী। এই সময় থেকে ভরের শুরু। প্রথম ভরের সময় পাড়ার ছেলেরাই ডাক্তার ডেকে আনে। ডাক্তার পরীক্ষা করে অবাক হন। সব কিছুই স্বাভাবিক। বিজলী দেবীর দাবি মতো ডাক্তার রোগ সারাতে তাঁর অক্ষমতা জানান। কোনও ওষুধ প্রেসক্রাইব না করেই বিদায় নেন। এর কিছুদিন পর দ্বিতীয় ভর সন্ধের সময় তুলসীতলায় প্রদীপ দিতে গিয়ে, সেই সময় মা তারা নাকি বিজলীর মুখ দিয়ে জানান তাঁর ঘট স্থাপন করে পুজো দিতে। তারপর থেকে ঘট স্থাপন ও পুজো! মন্দিরে মারের যে মূর্তিটি আছে বিজলীর ভগ্নিপতিই তা তৈরি করান স্বপ্নে দেখা মূর্তির অনুকরণে।

 বিজলী তারা মা নামেই বেশি পরিচিতা। তিনি যে সব ওষুধ দেন বা যাঁদের ঝেড়ে দেন, তাঁদের অনেকেই নাকি রোগমুক্ত হয়েছেন। তারামার কথায়: দৈব ওষুধ-টষুধের আমি কিছুই জানি না। আমার অলৌকিক কোনও ক্ষমতাই নেই। যা করেন, যা ক্ষমতা সবই মা তারার।

 অসুখ-বিসুখে অনেকে ঝাড়াতে যান। ভরে তারা মা ঝেড়েও দেন। কয়েক বছর আগে আমি তাঁরই এক ভক্ত শিষ্যের সঙ্গী হয়ে গিয়েছিলাম। অতি স্পষ্টভাবেই জেনে ফিরেছিলাম, ‘তারা মা’র সত্যি-মিথ্যা বোঝার সামান্যতম ক্ষমতাও নেই।

দুপুর থেকে সন্ধে তারাপীঠ ছেড়ে ‘মা’

নেমে আসেন নমিতা মাকাল-এর শরীরে

 নাওভাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে শান্তিনগর ইস্টার্ন বাইপাসে ভাঙড়ের একটি অতি সাধারণ ঘরে থাকেন নমিতা মাকাল। সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় ছবি সহ তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার সময় ভালোই যাচ্ছে। ভক্তেরা প্রণামী দিচ্ছেন টাকা-পয়সা, শাড়ি, কাপড়, এটা-ওটা। শহরতলির এই এলাকাটি কিছুদিন আগেও ছিল হতশ্রী। এখন কিছুটা রং ফিরেছে।

 নমিতার বয়স বছর তিরিশ। বিয়ে বছর পনেরো আগে। স্বামী ও দুই ছেলে নিয়ে সংসার। দ্বিতীয় সন্তান হবার এক বছর বাদে বাড়িতে প্রথম