কেমন আছে, আদৌ বেঁচে আছে কি না, কিছুই জানি না।”
—“চিন্তা করিস না। ওই ফুলের অপার ক্ষমতা। ফুলই তোর দাদাকে এনে দেবে।”
—“কবে?”
—“তাড়াতাড়ি।”
—“তাড়াতাড়ি মানে দু মাসও হতে পারে, আবার দশ বছরও হতে পারে? ঠিক কবে নাগাদ আসবে?”
—“ছ-মাস থেকে এক বছরের মধ্যে।”
সুবীর বেরিয়ে আসতেই গৌরীর বোন সন্ধ্যা বললেন, “আপনি আমাকে আগে বলবেন তো—দাদা নিখোঁজ। সমস্ত উত্তর পাইরে দিতাম। মনে হয় ওকে কেউ ওষুধ করেছে।”
ইতিমধ্যে আরও কিছু ভক্ত ঘিরে ধরল। তারপর অনেক প্রশ্ন—“আপনার দাদা বুঝি নিখোঁজ?” “বাবা বলে দিয়েছেন কবে আপনার দাদা ফিরবে?” “মনে হয় আপনাদের বাড়িতে কেউ ওষুধ পুঁতেছে।”
সন্ধ্যা ভক্তদের বোঝাতে লাগলেন, “বাবার কাছে অজানা তো কিছু নেই, তাই ওঁকে দাদা নিখোঁজ হওয়ার কথা বলে দিয়েছেন। কবে ফিরবে, তাও। তবে নিয়ম পালন করতে হবে নিষ্ঠার সঙ্গে।”
সন্ধ্যার কথায় আরো অনেক ভক্ত উৎসাহী হলেন। এঁদের অনেকেই হয় তো গৌরী-সন্ধ্যাদের এজেণ্ট, কেউ বে-ফাস কিছু বলে গোলমাল পাকাবার চেষ্টা করলে নেবার জন্য মজুত রয়েছেন। সুবীর তাই ওখানেই সোচ্চার হতে পারলেন না—নিজের পেটে ব্যথার গল্পোটা বাবা-মা-র ভরের পরীক্ষা নিতেই বলানো। আর দাদার নিখোঁজ হওয়াটা? নিজেই বড় ছেলে। দাদা কই, যে নিখোঁজ হবে?
আমাদের সমিতির শাখা ও সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভরের জালিয়াতি ধরেছে কাজল ভট্টাচার্যর নেতৃত্বে আমাদের সমিতির ময়নাগুড়ি শাখা—১৯টি। তারপরই অমিত নন্দীর নেতৃত্বে আমাদের চুঁচড়ো শাখা ৩টি। শশাঙ্ক বৈরাগ্যর নেতৃত্বে কৃষ্ণনগরের ‘বিবর্তন’—৩টি।
ঈশ্বরে ভর নিয়ে আমাদের সমিতির বিভিন্ন শাখা ও সহযোগী সংস্থা কম করে একশো-র ওপর (আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির হিসেব বাদ দিয়ে) শীতলা, মনসা, কালী, তারা, বগলা, তারকভোলা, পাঁচুঠাকুর, বনবিবি, ওলাইচণ্ডী, জ্বরাসুর, পীর গোরাচাঁদ, ওলাবিবি ইত্যাদি দেবতার ভরের দাবিদারদের ওপর