বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩৬৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৬৪
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

ক্যানসারে ভুগছিলেন— এমন কোনও তথ্যই ওইসব মানুষগুলো হাজির করতে পারেননি। বরং দেখা গেছে ওইসব মানুষগুলো হয় ভর হওয়া বাবাজি-মাতাজিদের আত্মীয় অথবা ভক্ত। ওরা যে এজেণ্ট হিসেবে প্রচারে নেমেছে, এই বিষয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ থাকে না।

 শ্রদ্ধেয় পাঠকদের কাছে একটি বিনীত অনুরোধ—কারো কথায় কারো অলৌকিক ক্ষমতায় আস্থা স্থাপন না করে একটু জিজ্ঞাসু মন নিয়ে ভরের অবতারটিকে বাজিয়ে দেখুন—আপনার চোখে তার মিথ্যাচারিতা ধরা পড়বেই।

 তবু আমরা, সাধারণ মানুষরা, বিভ্রান্ত হই। আমাদের বিভ্রান্ত করা হয়। নামী দামী বহু প্রচারিত পত্র-পত্রিকায় অলৌকিকতা, জ্যোতিষ বা ভরের পক্ষে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলিই আমাদের, সাধারণ মানুষদের, বিভ্রান্ত করার হাতিয়ার।

 বহু থেকে একটি উদাহরণ হিসেবে আপনাদের সামনে হাজির করছি। ৩০ মে ’৯০ আনন্দবাজার পত্রিকায় বহুবর্ণের তিনটি ছবি সহ একটি বিশাল প্রতিবেদন প্রকাশিত হল ‘পূজারিণীর শরীর বেয়ে’ শিরোনামে। আপনাদের অবগতির জন্য এখানে তুলে দিচ্ছি।

পূজারিণীর শরীর বেয়ে দেবদেবীর ভর হয় পূজারিণীর শরীরে। সে সময় যা বলা যায় তাই মেলে। যা দাওয়াই দেওয়া হয় তাতেই রোগ নির্মূল হয়। ভর হয় কীভাবে?

 শনিবার বেলা দুটো। ঢাকুরিয়া স্টেশনের পাশে তিন-চার হাত উঁচু ছোট্ট একটি কালী মন্দির। মন্দিরের মাথায় চক্র ও ত্রিশূল। মন্দিরটির নাম ‘জয় মা রাঠের কালী।’ মন্দিরের সামনে একটি সিমেণ্টের বাঁধানো চাতান। সেই চাতাল ও পাশের মাঠে ইতস্তত ছড়ানো অনেক লোক। আর সেই দাওয়ার ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে এক যুবতী, পরনে লাল পাড় সাদা শাড়ি এলোমেলো, চোখ দুটি রোজা, নাকের পাটা ফোলা, মুখের দুপাশে ক্ষীণ রক্তের দাগ। মহিলাটির ভর হয়েছে। কালী পুজো করতে করতে অচেতন হয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়েন মহিলা। মুখ দিয়ে রক্ত বেরোতে থাকে। হঠাৎ মহিলা বলে উঠলেন, ‘স্বামীর লগে এয়েছিস কে?’ উপস্থিত জনতার মধ্যে সাড়া পড়ে গেল। শাঁখা-সিঁদুর মাঝবয়সী এক আধা-শহরে মহিলা ঠেলাঠেলি করে সামনে এলেন। মন্দিরে ছোট