বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩৭৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অবাক মেয়ে মৌসুমী’র মধ্যে সরস্বতীর অধিষ্ঠান...
৩৭১

অধিকর্তা ডি এন গাঙ্গুলী বিস্ময় বালিকা মৌসুমী সম্পর্কে কিছু খোঁজখবর রাখেন। তাঁর এক ছাত্রকে পাঠিয়েও ছিলেন আদ্রায় মৌসুমীর সঙ্গে কথা বলতে। শ্রীগাঙ্গুলীর মতে, মৌসুমীর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তির পিছনে আছে সম্ভবত বহু প্রজন্ম পূর্বের কোনও সুপ্ত জিন, এই মেয়েটির মধ্যে যার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।’

 প্রতিবেদনটিতে ডি এন গাঙ্গুলীর মতামত হিসেবে আরও প্রকাশিত হয়েছে, ‘মৌসুমীর বুদ্ধির যে স্তর তাতে তার জন্য বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা চাই। বিদেশে বিশেষত আমেরিকার উচ্চবুদ্ধির ছেলেমেয়েদের বাছাই করে তাদের জন্য বিশেষ ধরনের পাঠক্রম ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

 প্রতিবেদনটিতে প্রতিবেদক জানান, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান এবং মস্তিষ্কবিজ্ঞান বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডঃ জে জে ঘোষ আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, ‘মৌসুমীর মতো প্রডিজির সন্ধান পাওয়া সত্ত্বেও এখানকার বিজ্ঞানীরা ওকে নিয়ে তেমন মাথা থামাচ্ছেন না, সিরিয়াস গবেষণার কণা ভাবছেন না।’

 জনপ্রিয় পাক্ষিক ‘সানন্দা’র ৭ সেপ্টেম্বর ’৮৯ সংখ্যায় মৌসুমীকে নিয়ে একটি প্রচ্ছদ কহিনি ‘বিশেষ রচনা’ প্রকাশিত হয়। শিরোনামে ছিল ‘অবাক পৃথিবীর অবাক মেয়ে’। আটটি রঙিন ছবিতে সাজানো এই বিশেষ রচনার রচয়িতা সুজন চন্দ মৌসুমীর ইংরেজি উচ্চারণ প্রসঙ্গে জানাচ্ছেন, ‘একেবারে মেম সাহেবের মতো উচ্চারণ।’ শ্রীচন্দ আরও জানাচ্ছেন, ‘সেই তুলনায় বাংলা উচ্চারণ ততটা ভালো নয়। কিছুটা আঞ্চলিক টান আছে তাতে। তবে হিন্দি উচ্চারণে বেশ মুন্সিয়ানা আছে।”

 মৌসুমীর টাইপের স্পিড সম্বন্ধে বলতে গিয়ে শ্রীচন্দ জানাচ্ছেন, ‘ও যেভাবে দ্রুত টাইপ করছিল তাতে হলফ করেই বলা যায় স্পিড কম করেও ৪৫। চমৎকার ফিঙ্গারিং।’

 প্রতিবেদক আরও জানিয়েছেন, শুধু জ্ঞানের পরীক্ষা নয়, বুদ্ধির ও রাজনীতির পরীক্ষাতেও মৌসুমী পাকা ডিপ্লোম্যাট। মৌসুমী এখন গবেষণা করছে কয়লাকে সালফারমুক্ত করা নিয়ে। এ কাজে সফল হলে বায়ুদূষণ থেকে যুক্ত হবে পৃথিবী। মৌসুমীর ধারণা ও সফল হবেই, নোবেল প্রাইজ পাবে এর সাড়ে ন-বছর বয়সের মধ্যেই।

 জনপ্রিয় বাংলা মাসিক ‘আলোকপাত’ মৌসুমীকে নিয়ে প্রচ্ছদকহিনী প্রকাশ করে সেপ্টেম্বর ৮৯ সংখ্যায়। শিরোনাম—‘বিস্ময় বালিকা মৌসুমী: সাত