বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩৭৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অবাক মেয়ে মৌসুমী’র মধ্যে সরস্বতীর অধিষ্ঠান...
৩৭৩

অধ্যাত্মবাদ কিছুই বাদ ছিল না। আর প্রতিটি আলোচনাতেই মৌসুমী এই প্রতিবেদকের জ্ঞানের সীমারেখা থেকে অনেক উঁচুতে থেকে সব উত্তর দিয়েছেন।’ ....“সাত বছরের মৌসুমী টাইপেও সিদ্ধহস্ত। ওর সমস্ত রিসার্চ পেপার ও নিজেই টাইপ করে। টাইপে ওর স্পিড ইংরাজিতে ৯০ এবং বাংলায় ৪০। মৌসুমী খুব ভালো গানও গাইতে পারে। রবীন্দ্রসঙ্গীত, রাগপ্রধান দুধরনেরই।”

 আরও বহু পত্র-পত্রিকার মতো এই পত্রিকাতেও ঘুরেফিরে মৌসুমীর রিসার্চের কথা এসেছিল। প্রতিবেদক জানাচ্ছেন, মৌসুমীর বাবা ‘সাধনবাবুর ব্যবহার খুবই আন্তরিক। আমাদের জন্য চা পর্বের ব্যবস্থা করে এসে জানালেন—মৌসুমী একটু রিসার্চের কাজ করছে। আধঘণ্টা পরেই আসছে। রিসার্ট? চমকে উঠলাম, সাত বছরের মেয়ে রিসার্চ করছে-সে আবার কি? মনের ভাব গোপন রেখে বললাম,—রিসার্চ? আপনার মেয়ে রিসার্চ করে নাকি?

 —হ্যাঁ, তবে বিষয়টা বলতে পারব না। শুধু এটুকু বলতে পারি, যে বিষয়টা নিয়ে রিসার্চ করছে সেটা অবশ্যই মানব কল্যাণের পক্ষে।

 —মৌসুমী বহুবারই বলেছে সে ডাক্তার হতে ভালোবাসে। তা এই রিসার্চ চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোন কাজে লাগবে?

 —বললাম তো, এর রিসার্চ সফল হলে ভারতের মর্যাদা বিশ্বের দরবারে বেড়ে যাবে। আর এই রিসার্চ এত গোপনীয় রাখার কারণ হল, বিষয়টি এতই নতুন এবং প্রয়োজনীয় যে খবর বাইরে গেলে আমরা বিপদে পড়ে যেতে পারি।”

 —আচ্ছা, এর আগে মৌসুমী কি কোন বিষয়ের উপর রিসার্চ করেছে?

 —কয়লার ওপর কাজও করেছে। তবে সেটা উল্লেখ করার মতো নয়। আর সে ব্যাপারটায় ওকে এগোতে দিইনি। এই বড় কাজটির দিকে তাকিয়ে। আসানসোল বি ই কলেজের অধ্যাপকরা ওকে নিয়ে এখানে একবার একটা গ্রুপ ডিসকাশন করেছিলেন।’

 মৌসুমী রিসার্চ করছে। অর্থাৎ ওর জ্ঞান বিজ্ঞানে মাস্টার ডিগ্রির সীমাকে অতিক্রম করেছে এবং ও আর আড়াই বছরের মধ্যে বিজ্ঞান নোবেল পুরস্কার পাবে এই বিশ্বাস বহু বঙ্গবাসী ও ভারতবাসীকে প্রাণীত করেছিল, গর্বিত করেছিল।

 ৩০ জুলাই ১৯৮৯। দিল্লি দূরদর্শনের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের ইংরেজি সংবাদে