প্রায় দুমিনিট ধরে নানাভাবে মৌসুমীকে হাজির করা হল কোটি কোটি দর্শকদের কাছে। মানুষ দেখলেন, পরিচিত হলেন ‘ওয়াণ্ডার গার্ল’-এর বিস্ময়কর প্রতিভার সঙ্গে।
এরও দু-বছর আগে আমরা একটু পিছিয়ে গেলে মন্দ হয় না। ‘দ্য স্টেটসম্যান’ দৈনিক পত্রিকা ২১ এপ্রিল ’৮৭ মৌসুমীর এক বিশাল ছবি-সহ দীর্ঘ প্রবন্ধ প্রকাশ করে। শিরোনাম ছিল, ‘Wonder girl of Purulia Village’। প্রতিবেদক অলোকেশ সেন। তখন মৌসুমীর বয়স মাত্র চার বছর আট মাস।
প্রতিবেদক মৌসুমীর প্রসঙ্গে জানাচ্ছেন, “Mousumi's interest on studies became evident when she was only one and a half years old. Since then she has learnt to read, write and speak in Bengali, Hindi and English. At present, she is learning German at home.”
অর্থাৎ, মৌসুমীর পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ সূচিত হয় মাত্র দেড় বছর বয়সে। তারপর ও বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজিতে পড়তে, লিখতে ও বলতে শিখেছে। বর্তমানে বাড়িতেই জার্মান শিখছে।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে মৌসুমী টাইপ করছে। ছবির তলায় লেখা—Mousumi Chakraborty typing out some paragraph from one of her text books.
সমাজ সচেতন বিজ্ঞানমনস্ক বলে স্ববিজ্ঞাপিত মাসিক পত্রিকা ‘উৎস মানুষ’ আগস্ট ’৮৭ সংখ্যায় মৌসুমীকে নিয়ে প্রচ্ছদকাহিনি করলেন, ছবি-সহ। শিরোনাম ছিল, ‘পুরুলিয়ার আশ্চর্য মেয়ে মৌসুমী।’ প্রতিবেদক অভিজিৎ মজুমদার।
পাঠকরা একটু লক্ষ্য করতেই দেখতে পাবেন, প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবার সময়ও মৌসুমী পাঁচের কোঠায় পা দেয়নি। প্রতিবেদক অবশ্য জানাচ্ছেন সাড়ে চার বছরের মৌসুমীকে ধানবাদের সেণ্ট্রাল ফুয়েল রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর বিজ্ঞানীরা ‘অজস্র প্রশ্ন করেছে ইংরেজি, বাংলা বা হিন্দিতে। যেমন সালফিউরিক বা নাইট্রিক অ্যাসিডের সংকেতিক নাম কিংবা কয়লা গবেষণা বিষয়ে নানা জটিল উত্তর দিয়ে সবাইকে অবাক করেছে।’ সেই সঙ্গে প্রতিবেদক এও জানিয়েছেন, এত সব উত্তর দিচ্ছে—‘যদিও সব কথা এখনো স্পষ্ট নয়।’ সত্যিই তো সাড়ে চার বছর আধো-আধো কথা বলারই বয়স।
উৎস মানুষ আরো জানাচ্ছে, ‘বিস্ময়ের ব্যাপার, মৌসুমী টাইপ মেসিনে