বিবর্তনবাদের প্রবক্তা চার্লস ডারউইন, বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা শরৎচন্দ্র—এঁরা কেউই শিশু প্রডিজি ছিলেন না। বরং লিউয়েনহুক এবং ডারউইন ‘ফালতু’ বলেই চিহ্নিত হয়েছিলেন। লেখাপড়ায় মোটেই জুতসই ছিলেন না, ছিলেন নড়বড়ে। ছাত্র জীবনে আইনস্টাইনও এঁদের থেকে ভিন্নতর কিছু ছিলেন না। একবার পদার্থবিদ্যায় অকৃতকার্যও হয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের ছাত্রজীবনও কৃতিত্বপূর্ণ ছিল না, শরৎচন্দ্রের ক্ষেত্রেও একই কথাই বলতে হয়। বিশ্বত্রাস বোলার চন্দ্রশেখর শৈশবে পোলিও-তে আক্রান্ত হয়ে চিহ্নিত হয়েছিলেন ‘বিকলাঙ্গ’ হিসেবে। তাঁর ক্রীড়া-জগতে অক্ষয় কীর্তি স্থাপনের কথা সেই সময় কারো কষ্ট-কল্পনাতেও আসেনি। এমন উদাহরণ বহু আছে।
আমাদের দেশে শুধু মৌসুমীই নয়, বর্তমানে আরো কয়েকজনের সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা বিস্ময়কর শিশু প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। এমনই একজন চার বছরের মেয়ে পায়েল। ’৮৯-তে পুণে ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতায় ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট ৫২ সেকেণ্ডে দৌড় শেষ করে সারা বিশ্বকে চমকিত করেছে। দৌড়ের সময় পায়েলের ওজন ছিল মাত্র ১৫ কেজি, উচ্চতা ৫৪ মিটার। অনসূয়া নটরাজন ১১ বছরের বালিকা। নিবাস কলকাতায়। ভারতনাট্যমে অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে বহু গুণিজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ইতিমধ্যেই। ভাল ও লয়ের দখল, ভাব উপলব্ধির ক্ষমতা বিস্ময়কর।
মধ্যপ্রদেশের গ্রামের ছেলে ন-বছরের বীরেন্দ্র সিং ইতিমধ্যেই ৩০০ কবিতা লিখেছে, যেগুলো কাব্যগুণে সাহিত্যিক ও সাহিত্য-রসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভোপালের কবি মহল থেকে পেয়েছে ‘বাল কবি নাদান’ উপাধি। ওর প্রতিভার প্রকাশ মাত্র চার বছর বয়সে। ওর কাব্য প্রতিভা শুধু কবিতাতেই আবদ্ধ থাকেনি। বেশ কিছু গল্পও লিখেছে, লিখেছে সিনেমার চিত্রনাট্য। ইতিমধ্যে বোম্বাই ফিল্ম জগতের চিত্র-পরিচালক শেখর কাপুরের ফিল্মে সাহায্যকারী হিসেবে নাকি থাকার আমন্ত্রণ পেয়েছে।
অমিত পাল সিং চাড্ডা ক্লাস থ্রির ছাত্র। পড়ে বালভারতী এয়ারফোর্স স্কুলে। ইতিমধ্যে জীবন্ত ‘ইয়ার বুক’ হিসেবে অনেক প্রচার মাধ্যমের নজর কেড়েছে। টু-তে পড়তে ওর বাবা কিনে দিয়েছিলেন ‘কম্পিটিশন সাকসেস রিভিউ’। মাত্র দু-ঘণ্টায় মুখস্থ করে অমিত শুরু করেছে ওর জয়যাত্রা।
আমেরিকার টেলিভিশন একটি সাত বছরের শিশুর অদ্ভুত কাণ্ডকারখানার সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়ে দিয়েছে কোটি কোটি দর্শকের। শিশুটি ভারতীয়—জিপসা