অথচ আমাদের মস্তিষ্ক স্নায়ুকোষের বিষয়ে আমরা শতকরা দশ ভাগ খবরও জানতে পেরেছি কি না সন্দেহ। এ সন্দেহ আমার নয়, বিজ্ঞানীদের। এই মস্তিষ্ক স্নায়ুকোষ থেকেই চিন্তা, বুদ্ধি, প্রজ্ঞার উৎপত্তি। উনিশ শতকে হার্বার্ট স্পেনসার, কার্ল পিয়ারসন, ফ্রান্সিস গ্যালটন প্রমুখ বিশিষ্ট বিজ্ঞানী দার্শনিকরা বুদ্ধির বিকাশ, বিবর্তন, বংশগত ভিত্তি, বুদ্ধির পরিমাপ ইত্যাদি নিয়ে বহু গবেষণা করেছেন।
ইংলণ্ডের প্রখ্যাত মনস্তত্ত্ববিদ চার্লস স্পিয়ারম্যান প্রথম বুদ্ধি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারণাকে রূপ দেন এক সুনির্দিষ্ট গাণিতিক তত্ত্বে। স্পিয়ারম্যানের ওই মতবাদ সমসাময়িক মনোবিজ্ঞানীদের কেউই প্রায় মেনে নেননি। যদিও পরবর্তীকালে তাঁর তত্ত্ব অনেকেই মেনে নিয়েছিলেন। স্পিয়ারম্যান মনে করতেন, একটি মানুষের সার্বিক বোধশক্তি জন্মগত।
এলেন ফরাসি মনোবিজ্ঞানী আলফ্রেড বিনেট। সে সময় ফ্রান্সে ছাত্রদের নিয়ে এক অভূতপূর্ব সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিশাল সংখ্যক স্কুল ছাত্ররা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হতে থাকে। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার সম্ভাবনা কোন্ কোন ছাত্রদের বেশি, তাদের শনাক্তকরণের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিনেটকে। উদ্দেশ্য ওই সব চিহ্নিত ছাত্রদের বিশেষ প্রশিক্ষণের সাহায্যে পরীক্ষায় কৃতকার্য করা যায়। বিনেটের দায়িত্ব পাওয়ার সময় ১৯০৪-০৫ সাল। শনাক্তকরণের উদ্দেশ্যে বিনেট যে অভীক্ষার প্রশ্ন তৈরি করেন, তা সবই ছিল ছাত্রদের বিভিন্ন ক্লাসের পাঠক্রমের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। স্কুলের পরীক্ষায় সাফল্য ও ব্যর্থতা বৃদ্ধি ও মেধার তারতম্যের ফল, এই ধারণা থেকেই এই অভীক্ষা প্রশ্নকে ‘বুদ্ধি অভীক্ষা’ নামে বা আই কিউ (Intelligence Quotient সংক্ষেপে I. Q) নামে অবহিত করা হতে থাকে।
‘আই কিউ’তে যে নম্বর দেওয়া হত, তার হিসেব করা হত এইভাবে প্রশ্নাবলির বিন্যাস হতো বয়স অনুপাতে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের। উত্তরদাতা যে বয়সের, সেই বয়সের জন্য নির্ধারিত সঠিক উত্তর দিলে উত্তরদাতার মানসিক বয়স (mental age) ও প্রকৃত বয়স (chronological age) সমান বলে ধরে নিয়ে তাকে দেওয়া হতো ১০০ নম্বর। অর্থাৎ দশ বছরের কোনও বালক দশ বছরের জন্য নির্দিষ্ট সমস্ত প্রশ্নের ঠিক উত্তর দিতে পারলে তাকে দেওয়া হবে ১০০। এর অর্থ দশ বছর বয়সে সাধারণ মানের ছেলেমেয়েদের যে ধরনের বুদ্ধি থাকা উচিত, তা আছে। ১০ বছরের বালকটি ২০ বছর বয়সের জন্য নির্দিষ্ট প্রশ্নের সবগুলোর ঠিক উত্তর দিতে পারলে তার প্রাপ্য বুদ্ধিঅলৌকিক নয় লৌকিক/—২৫