বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩৯৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৯৪
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

শিশুকাল থেকে আপনি-আমি আমাদের সামাজিক পরিবেশ মানুষ করলে দেখতে পাব শিশুটি বড় হয়ে আমাদের সমাজের আর দশটা ছেলে-মেয়ের গড় বিদ্যে, বুদ্ধি, মেধার পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু একটি মানুষের পরিবর্তে একটি বনমানুষকে বা শিম্পাঞ্জিকে শিশুকাল থেকে আমাদের সামাজিক পরিবেশে মানুষ করলেও এবং আমাদের পরিবারের শিশুর মতোই লেখাপড়া শেখাবার সর্বাত্মক চেষ্টা চালালেও তাকে আমাদের সমাজের স্বাভাবিক শিশুদের বিদ্যে, বুদ্ধি, মেধার অধিকারী করতে পারব না। কারণ ওই বনমানুষ বা শিম্পাঞ্জির ভেতর বংশগতির ধারায় বংশক্রমিক গুণ না থাকায় তা অনুকূল পরিবেশ পেলেও বিকশিত হওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়। অর্থাৎ মানব গুণ বিকাশে জিন ও পরিবেশ দুয়েরই প্রভাব বিদ্যমান।

আমাদের মধ্যে বংশানুক্রমিক
মানবিক গুণের বিকাশ ঘটে অনুকূল
সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশে। জিনগত
কারণে বা বংশানুক্রমিক কারণে পশুদের মধ্যে
মানবিক গুণ বা বৈশিষ্ট্য বিকশিত হওয়ার
সম্ভাবনা না থাকায় অনুকূল পরিবেশের
সাহায্যে পশুদের মানবিক গুণের
অধিকারী করা সম্ভব নয়।

 এই তত্ত্ব আজ সমস্ত মনোবিজ্ঞানীর স্বীকৃতি পেয়েছে।

মানবগুণ বিকাশে পরিবেশের প্রভাব

একটি মানুষের শিশু বয়স থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত মানবিক গুণের ক্রমবিকাশের বিষয়ে উন্নততর দেশগুলোতে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। ওইসব দেশেই মনোবিজ্ঞানী ও চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখন স্বীকার করেই নিয়েছেন—মানুষের বংশগতি সূত্রে প্রাপ্ত অধিকাংশ বৈশিষ্ট্যই পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত। সেই কারণে “মানবিক গুণের বিকাশে কার প্রভাব বেশি—বংশগতি অথবা পরিবেশ।” এই জাতীয় শিরোনামের বিতর্কে ওসব দেশের বিজ্ঞানীরা আজকাল আর অবতীর্ণ হন না, এককালে যেমনটি হতেন। তবে এখনও এদেশের বহু চিকিৎসাবিজ্ঞানী বংশগতিকে অত্যধিক বা চূড়ান্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে আধুনিক