উদ্ধার পাবার একটিই পথ, তা হলো বোঙ্গাকে সন্তুষ্ট করা। তুষ্ট করতে তাই বোঙ্গার পুজো দেওয়া হয়েছে, বলি দেওয়া হয়েছে ছাগল-মুরগি।
বান্দিজারির কাছেই মনোহরপুর অঞ্চল। মনোহরপুর ব্লকের বারোটি গ্রামই আক্রান্ত। মনোহরপুরের আদিবাসীদেরও ধারণা বান্দিজারির আদিবাসীদের মতোই। তারাও বোঙ্গার রোষ কমাতে পুজো দিয়েছে। বাড়ি বাড়ি মরার খবর দিতে গিয়ে তাঁরা কাঁদছিলেন। না দোষারোপ করেননি সরকারের উদাসীনতার। দোষ দেননি বোঙ্গাকে পর্যন্ত। দোষ দিয়েছেন নিজেদের ভাগ্যকে।
এরকম গ্রাম আমাদের দেশে একটি দুটি বা দশটি বিশটি নয়, আছে লক্ষ লক্ষ। এমন বঞ্চিত মানুষ কোটি কোটি। গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতের আলো আর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টিভি যোগাযোগের বিজ্ঞাপনের বা তথ্যচিত্রে যে ছবি দূরদর্শনে প্রচারিত হয়, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি গ্রাম দূরদর্শনে হাজির হয় না, আপনার আমার কাছে অধরাই থেকে যায়।
দূরদর্শনের পর্দায় বা বাণিজ্যিক সিনেমায় আমরা যে সুন্দর শান্ত গ্রামের ছবি দেখি, তা নিয়ে কিন্তু আমাদের দেশ নয়। আমাদের দেশ লক্ষ বান্দিজারি গ্রাম নিয়েই।
এত সবই আর্থ-সামাজিক পরিবেশেরই ফল।
এই পরিবেশের চাবিকাঠি যাদের হাতে তারা চায় না
ওইসব বঞ্চিত মানুষগুলোর নেশা কাটুক, ঘুম
ভাঙুক, নিজেদের অধিকার বিষয়ে সচেতন
হোক। এই সচেতনতা আনতে পারে
অনুকূল, সুস্থ সমাজ―
সাংস্কৃতিক পরিবেশ।
আর এও চরমতম সত্য—অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে চিকিৎসা লাভের স্বাধীনতা, শিক্ষা গ্রহণের স্বাধীনতা, জীবিকার স্বাধীনতা ইত্যাদি সব স্বাধীনতাই অর্থহীন রসিকতা মনে হয়।
মানব জীবনে সমাজ-সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রভাব
সংস্কৃতি দেশে দেশে ভিন্নতর। আবার একই দেশের ধর্মভিত্তিক, ভাষাভিত্তিক, অর্থভিত্তিক, শ্রেণিভিত্তিক অঞ্চলভিত্তিক আল আলাদা সংস্কৃতি গড়ে