মৌসুমী বলে গেল, “থার্টি ফার্স্ট অক্টোবর নাইনটিন এইটটি ফোর।”
সাধনবাবুর আবার প্রশ্ন, “কবে কলকাতায় জন্ম হয়েছিল?”
সাধনবাবুর চকচকে চোখে উৎসাহিত প্রশ্নে ও মৌসুমীর জবাবে সুবীরবাবু ও শঙ্করবাবু যথেষ্ট উৎসাহিত হচ্ছিলেন।
সুধীরবাবু আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “সব ঠিক ঠিক উত্তর দিচ্ছে তো?”
বললাম, “হ্যাঁ”।
ইতিমধ্যে সাধনবাবু আরও অনেক প্রশ্নই করেছেন। আমাকেও এই ধরনের প্রশ্ন করে মৌসুমীর স্মরণ শক্তির পরীক্ষা নিতে আরও উৎসাহিত করলেন সাধনবাবু ও শিপ্রাদেবী।
না, জিজ্ঞেস করলাম না। কারণ মৌসুমীর বাবা-মা যেভাবে আমাকে পরীক্ষা নিতে মানসিকভাবে চালিত করবেন সেভাবে পরীক্ষা নিলে যে বাস্তবিকই পরীক্ষাটা আর পরীক্ষা থাকবে না, সে বিষয়ে সচেতন ছিলাম। পত্র-পত্রিকা পড়ে ও দূরদর্শনের কল্যাণে জেনেছিলাম সাধনবাবু বিজ্ঞানী। মৌসুমী তাকে বিজ্ঞান গবেষণায় সাহায্য করে। এও জেনেছি মৌসুমীর মা শিপ্রাদেবীও ভাল ছাত্রী ছিলেন। কিন্তু সাধনবাবু আর শিপ্রাদেবীর কথাবার্তায়, ব্যবহারে এই জানাকে সত্য বলে মেনে নিতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। দুজনের বাক চাতুর্যকে তারিফ করেও বাস্তব সত্যকে টেনে আনতে বললাম, “ডাক্তার ডি এন গাঙ্গুলি আনন্দবাজারের প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘মৌসুমীর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তির পিছনে আছে সম্ভবত বহু প্রজন্ম পূর্বের কোনও সুপ্ত জিন, এই মেয়েটির মধ্যে যার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।’ এই পরিপ্রেক্ষিতে আপনার ও আপনার স্ত্রীর কাছে আপনাদের পূর্ব পুরুষদের বিষয়ে জানতে চাই।”
সাধনবাবু জানালেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের কেউ শ্রুতিধর ছিলেন বলে কোন দিনই শুনিনি।” আরও জানালেন চাষ-বাসই ছিল পূর্বপুরুষদের জীবিকা। সাধনবাবু ও তাঁর দাদাই প্রথম চাকরি করছেন। শিপ্রাদেবী জানালেন, “আমার বাবা ঠাকুরদারা ছিলেন বড় বড় অফিসার।”
“কী ধরনের বড় অফিসার?” প্রশ্ন করে জানতে পারলাম, বাবা ছিলেন গ্রামের পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার এবং ঠাকুরদা ছিলেন বাঁকুড়া জেলার একটি গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার।
সাধনবাবু ৬৯ সালে স্কুল ফাইনালে পাশ করেছেন থার্ড ডিভিশনে। ’৭৩-এ পাশ কোর্সের বি এস-সি পাশ করেন। বিষয় ছিল ফিজিক্স, কেমেস্ট্রি, ম্যাথমেটিক্স। ’৭৮-এ ধানবাদের ফুয়েল রিসার্চ ইন্সটিটিউট-এ স্টেনোগ্রাফার