ফেরত দিতে বাধ্য হল। শ্যামের কত টাকা ক্ষতি হল?
মৌসুমী বার কয়েক প্রশ্নটা পড়ল। ওর বাবাও প্রশ্নটা বুঝিয়ে দিতে সাহায্য করলেন। মৌসুমী বাবার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, “২০০ টাকা হবে, না বাবা”।
সাধনবাবু বললেন, “তাই লেখো”। এই কথার মধ্য দিয়েই সাধনবাবু মৌসুমীকে ২০০ টাকা লেখার সংকেত দিলেন। আমি নিশ্চিত, সাধনবাবুর কাছে উত্তরটা অন্য কিছু মনে হলে “আর একটু ভাবো” জাতীয় কিছু বলে বুঝিয়ে দিতেন উত্তর ঠিক হচ্ছে না।
মৌসুমী উত্তর ২০০ টাকা লিখে স্বাক্ষর করল। এই উত্তরটাও মৌসুমী ও সাধনবাবুর ভুল হল। উত্তর হবে ১০০ টাকা। কারণ, শ্যাম মধুর কাছ থেকে ১০০ টাকা পেয়েছিল। ১০০ টাকাই ফিরিয়ে দিল। লাভ-ক্ষতি শূন্য। ক্ষতি শুধু রামকে, দেওয়া ৫০ টাকার জিনিস ও ৫০টি টাকা।
ব্যর্থতা ও অনিশ্চিত অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সাধনবাবু বললেন, “ও ফিজিক্স, কেমিস্ট্রিতে অনার্স স্ট্যাণ্ডার্ডের। ওকে বুঝতে হলে ওইসব নিয়ে প্রশ্ন করুন।”
এমন একটা অবস্থার জন্যও তৈরি ছিলাম। পাঁচটা প্রশ্ন লিখে উত্তর দেওয়ার মতো জায়গা রেখে হাজির করলাম মৌসুমীর সামনে। প্রশ্নগুলো অবশ্যই উচ্চ মাধ্যমিক থেকে বি এস-সি পাশ কোর্স মানের। প্রথম প্রশ্ন “What is the formula of Chrome alum?”
মৌসুমী পরিষ্কার অক্ষরে লেখা ইংরেজিও পড়তে পারছিল না। পড়ে বাংলা মানে করে দেওয়ার পরও মৌসুমী উত্তরের সংকেতের আশায় বাবার মুখের দিকে চেয়ে রইল। বাবা বললেন, “মনে নেই পটাসিয়াম অ্যালার্মের ফর্মুলা।” বাবার সব চেষ্টাতে ঠাণ্ডা জল ঢেলে দিয়ে মৌসুমী লিখল “No”। করল স্বাক্ষর।
দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল “What is the clue of chemical reaction?” মৌসুমীকে পূর্ববৎ বাংলা মানে করে দিতে হল। মৌসুমী আবার দীর্ঘ সময় নিয়ে শেষপর্যন্ত লিখল “No”। করল স্বাক্ষর।
তৃতীয় প্রশ্ন “What is the equivalent weight of and acid?” প্রশ্ন নিয়ে মৌসুমী এবারও খাবি খেল। সাধনবাবু বললেন, “অ্যাসিড কাকে বলে মনে নেই।” মৌসুমী দম দেওয়া পুতুলের মতো বলে গেল, অ্যাসিড কাকে বলে। সাধনবাবু মেয়েকে বার বার করে ধরিয়ে দিতে চাইলেন। কিন্তু মৌসুমী আবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে লিখল “No”।
অলৌকিক নয় লৌকিক/২য়—২৭