মুডে ছিল না, আমরা মৌসুমীকে কিছু প্রস্তাব রাখছি।
১। মৌসুমী যখন ভাল 'মুডে' থাকবে তখন আবার ওর পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত আছি। আমাদের সংস্থা মৌসুমীর এবং ওর মা-বাবার যাতায়াত খরচ পর্যন্ত বহন করবে।
২। সংবাদপত্র, দূরদর্শন, বেতার এবং অন্যান্য প্রচার-মাধ্যম, শিক্ষা দপ্তর ও অন্যান্য সরকারি দপ্তর মৌসুমীর বিষয়ে পরীক্ষা চালাতে চাইলে নিশ্চয়ই সহযোগিতা করব।
৩। মৌসুমীর মা-বাবা মৌসুমীর মেধার সত্যিকার মান বিষয়ে জনসাধারণকে অবহিত করুন।
তাঁরা কখনো বলছেন মৌসুমীর জ্ঞান অনার্স গ্র্যাজুয়েট মানের, কখনো বা বলছেন, এটা ভুললে চলবে না, মৌসুমী ৯১-এ মাধ্যমিক দেবে।
বহু ভাষাভাষী পত্র-পত্রিকায় আমাদের সমিতির এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। কিছু পত্র-পত্রিকা মৌসুমীকে আবার পরীক্ষায় হাজির করতে সম্ভাব্য সমস্ত রকম চেষ্টা করেছেন, কিন্তু মৌসুমীর বাবা-মা তাঁদের দাবির সত্যতা প্রমাণে এগিয়ে আসেননি!
সেই সময় সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘কোল্ডফিল্ড টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি লেখায় বলেছিলাম—
সাধনবাবুকে একটা স্পষ্ট কথা বলি, আপনি নিজে চিন্তা-ভাবনা করে জানান মৌসুমীর জ্ঞান কোন্ পর্যায়ের। তারপর তা আবার ঘোষণা করুন। আপনিই এতদিন সংবাদ মাধ্যমগুলোকে বলেছেন মৌসুমী গবেষণা করছে, জ্ঞান অনার্স লেভেলের, দারুণ আই কিউ, দারুণ টাইপ স্পিড, বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, জার্মান ও ডাচ জানে (যা ৭ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্রসদনেও প্রকাশ্যে বলেছেন), আজ তা হলে বলছেন কেন এটা ভুললে চলবে না ও সাত বছরের মেয়ে ১৯৯১-তে মাধ্যমিক দেবে। আপনি কি মানুষকে বোকা বানাতে সেণ্টিমেণ্টে সুড়সুড়ি দিতে চাইছেন?
ওইটুকু একটা বাচ্চা মেয়ের পক্ষে ২২ স্পিডে টাইপ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, কিন্তু ৬০-৯০-এ তোলার মিথ্যে চেষ্টা কেন? কোন উদ্দেশ্যে ডাচ, জার্মানের মিথ্যে গল্প ফাঁদছেন? কোন্ উদ্দেশ্যে ওর গায়ে অনার্স লেভেলের তকমা এঁটেছেন? গবেষক ইত্যাদি উদ্ভট কথা বলেছেন? বহু সংবাদ মাধ্যমকে এইসব কথা বলার পর এখনি কি আবার 'বলিনি' বলবেন ভাবছেন? আপনি কি বাস্তবিকই ওসব কথা বলেছেন, এমন প্রমাণ হাজির করলে কী করবেন