বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৪২৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪২২
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

ভেবেছেন কি? আবার একটি বিনীত অনুরোধ, মৌসুমীকে ‘দেবী’ বা ‘দেবশিশু’ বানিয়ে শেষ করে দেবেন না।

 একটি স্বার্থান্বেষী মহল থেকে চক্রান্তও শুরু হয়ে যায় তারপরেই। প্রচার করতে থাকেন, ‘সাত বছরের বাচ্চার পিছনে লেগেছে’, ‘বাঙালি হয়ে বাঙালিকে বাঁশ দিচ্ছে’, ‘নাম কেনার জন্য চিপ স্টাণ্ট দিচ্ছে’ ইত্যাদি ইত্যাদি। এঁদের উদ্দেশে জানাই—ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি যুক্তিবাদী মানসিকতার প্রসার চায়। যুক্তি মিথ্যেকে আশ্রয় করে থাকতে পারে না। কোন রাজনৈতিক নেতা, কোন্ বিখ্যাত ব্যক্তি, কোন প্রচার মাধ্যম কাকে সমর্থন করেছে দেখে সত্যানুসন্ধানে নামা বা না নামাটা আমাদের সমিতি ঠিক করে না। যাঁরা সাত বছরের বাচ্চার প্রসঙ্গ তুলেছেন, সাত বছরের বাচ্চাটির ক্ষতি তাঁরাই করছেন। তিলে তিলে মিথ্যে প্রচারের পাঁকে ডুবিয়ে দিচ্ছেন একটা শিশুর সম্ভাবনাকে, একটা সত্যকে। ধ্বংস করতে চাইছেন একটা আন্দোলনকে, সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে। মিথ্যাচারীদের সহানুভূতি ও কৃপার উপর কোনও আন্দোলন কোনদিনই গড়ে ওঠেনি, গড়ে উঠবেও না। সমালোচকদের প্রতি আর একটা জিজ্ঞাসা—আপনারা কি চান এরপর থেকে যুক্তিবাদী সমিতি বয়স, লিঙ্গ, বাঙালি-অবাঙালি ইত্যাদি বিচার করে মিথ্যাচারিতা ধরতে নামবে? যাঁরা সমালোচনার গণ্ডি পার হয়ে ‘নাম কেনার জন্য মিথ্যা চিপ স্টাণ্ট’ বলে নোংরা কুৎসা ছড়াচ্ছেন, তাঁদের কাছে আমাদের চ্যালেঞ্জ—সাহস থাকলে সামনাসামনি প্রমাণ করুন আপনাদের বক্তব্যের সত্যতা।

 আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদ্‌যাপন ও পশ্চিমবঙ্গ নিরক্ষরতা দূরীকরণ সমিতি’র অষ্টম রাজ্য সম্মেলন উপলক্ষে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বক্তা হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বর ’৯০ আমন্ত্রিত ছিলাম। কয়েক হাজার শিক্ষক ও সাক্ষরতা কর্মীদের সোচ্চার জিজ্ঞাসা ছিল মৌসুমীকে ঘিরে। উত্তরে সব কিছুই জানিয়েছিলাম। অনেকেই প্রশ্ন করেছিলেন, মৌসুমী কি সত্যিই মাধ্যমিকে প্রথম হবে বলে মনে করেন?

 বলেছিলাম, আগের দাবি প্রমাণের ক্ষেত্রে দেখেছি মৌসুমীর মা-বাবা যে ধরনের ভূমিকা পালন করেছেন, তাতে এমনটা ঘটা অস্বাভাবিক নয়, মৌসুমীর মাধ্যমিক পরীক্ষা গ্রহণ কেন্দ্রেও কিছু ফাঁক ও ফাঁকির ব্যবস্থা থেকেই যাবে, অর্থাৎ বাইরে থেকে মৌসুমীকে সহায়তা করার সুযোগ থেকেই যাবে।

 ১৭ সেপ্টেম্বর ’৯০-এ ‘আজকাল’ দৈনিক পত্রিকায় ‘রবিবাসর’-এ পাভলভ ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টর ডা. ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি লেখা প্রকাশিত