হলো। ১৩ আগস্ট আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য থেকে তিনি অদ্ভুত রকম সরে এসেছেন লক্ষ্য করলাম। ১৭ সেপ্টেম্বর লিখছেন, “মৌসুমীর সঙ্গে আমার প্রত্যক্ষ পরিচয় হয়নি। কাগজপত্রে তার কথা পড়েছি, আর শুনেছি আমার সহকর্মী ড: বাসুদেব মুখোপাধ্যায়ের কাছে, ড: মুখোপাধ্যায় আলিপুর সেণ্ট্রাল জেলের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি মৌসুমীর কাছে গিয়েছিলেন। তাঁর কাছে শুনেছি তিনি আর সকলের মতো কোনো প্রশ্ন না করে মৌসুমীকে শুধু অবজার্ভ করে গেছেন। তাঁর কাছে যা শুনেছি এবং কাগজপত্রে যা পড়েছি তাতে তো অবাক হওয়ার কিছু নেই। সকলেই বলেছেন, মৌসুমীর তাৎক্ষণিক স্মৃতিশক্তি খুব প্রখর।... সুতরাং মৌসুমীকে নিয়ে হইচই করার কোনো কারণ নেই। মনে রাখতে হবে স্মৃতির সঙ্গে বুদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই। তার স্মৃতির মতো বুদ্ধি ততটা নেই শুনেছি।”
কিন্তু বাসুদেববাবুর কাছ থেকে শুনে ও কাগজপত্র পড়ে আনন্দবাজার প্রতিনিধিকে যে জানিয়েছিলেন, মৌসুমীর তীক্ষ্ণ বুদ্ধির পিছনে সুপ্ত জিনের আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনার কথা। মৌসুমীর বুদ্ধির যে স্তর তাতে বিদেশে বিশেষত আমেরিকায় এর শিক্ষার ব্যবস্থা করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। এরপর এমন কী ঘটল, যাতে মাত্র ১ মাস ৪ দিনের মধ্যেই তাঁর মতো খ্যাতিমান মানসিক ব্যাধির চিকিৎসককে এমন অস্বাভাবিক রকমের মত পাল্টে বিপরীত কথা বলতে বাধ্য হলেন? তবে কি ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকায় ৭ সেপ্টেম্বর ‘Prodigy fails test by rationalist’ শিরোনামের প্রকাশিত খবরটিই তাঁকে এই বিপরীত বক্তব্য প্রকাশে বাধ্য করেছে? ওই সংবাদের শেষ পংক্তিতে ছিল ‘Mr, Ghosh believes that Mousumi has an extra-ordinary memory and may have been tutored to answer questions by rote.’ অর্থাৎ ‘শ্রীঘোষ মনে করেন, মৌসুমীর স্মৃতি অসাধারণ এবং ওকে কিছু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করানো হয়েছে।’ আর তাইতেই কি মৌসুমীর স্মৃতিকে ‘খুব প্রখর’ বলে মেনে নিয়েছেন? জানি না, প্রমা সাংস্কৃতিক সংস্থার কর্ণধার সুবীর চট্টোপাধ্যায় ও শংকর মালাকারের সঙ্গে ওই ৩ সেপ্টেম্বরই আমার মৌসুমীর স্মৃতি বিষয়ে যে সব কথাবার্তা হয়েছিল তা যদি কোনও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে ডাক্তার গাঙ্গুলির নজরে পড়ত, তারপরও ডা. গাঙ্গুলি মৌসুমীর স্মৃতি বিষয়ে নিজের বর্তমান মতে স্থির থাকতেন কি না? সুবীরবাবু ও শঙ্করবাবুকে বলেছিলাম, “মৌসুমীর যে স্মৃতি দেখে আপনারা বিস্মিত তেমন স্মৃতিশক্তি তৈরি করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।