বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৪২৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪২৪
অলৌকিক নয় লৌকিক ২

আপনারা তো অনুষ্ঠান স্পনসর করেন। স্মৃতিশক্তির এক মজার পরীক্ষার সঙ্গে উৎসাহী দর্শকদের পরীক্ষা করতেই না হয় স্পনসর করলেন। ফেব্রুয়ারি নাগাদ রবীন্দ্রসদন ‘বুক’ করুন। হিন্দু, বেথুন, রামকৃষ্ণ মিশন, সেণ্ট জেভিয়ার্স, সাউথ পয়েণ্টের মতো ভাল স্কুলের ক্লাস এইট-নাইনের ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে ছটি আগ্রহী ভাল ছাত্র-ছাত্রী বেছে আমার হাতে তুলে দিন সাত দিনের মধ্যে অনুষ্ঠানের দিন দর্শকদের সামনে হাজির করুন মৌসুমীকে ও আমার হাতে তুলে দেওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের। হলের যে কোনও একটা অংশকে বেছে নিয়ে পঞ্চাশটির মতো দর্শকাসন রঙিন রিবন দিয়ে ঘিরে দিন। রিবন ঘেরা দর্শকদের এক এক করে নিজেদের নাম বলতে বলুন। নামগুলো টেপ-রেকর্ডারে ধরে রাখুন। তারপর মৌসুমী ও ওই ছ’টি ছেলে-মেয়েকে দর্শকদের নাম বলতে বলুন। দেখুন, মৌসুমী কতজনের ঠিক বলতে পারে। আশা রাখি আমার ছ’জনই প্রতিটি দর্শকের নাম বলতে পারবে।”

 সুধীরবাবু ও শঙ্করবাবু যথেষ্ট উৎসাহ দেখিয়ে বলেছিলেন, “মৌসুমীরা দু-চার দিনের মধ্যেই তো কলকাতায় আসছে, সেই সময় এ বিষয়ে সাধনবাবুর সঙ্গে কথা বলে নেব। ওঁরা রাজি হলে নিশ্চয়ই স্পনসর করব।” জানুয়ারি ’৯১ অতিক্রান্ত। সুবীরবাবুদের মৌসুমীকে হাজির করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। প্রসঙ্গত জানাই, চলতি কথায় যাকে ‘স্মৃতিশক্তি বড়ানো’ বলে, সেই ‘স্মৃতি বৃদ্ধি’ বিষয়ে জানতে ও স্মৃতি বাড়াতে উৎসাহী পাঠক-পাঠিকাদের উৎসাহ মেটাতে ‘স্মৃতি প্রসঙ্গ’ নিয়ে ভবিষ্যতে একটি বই লেখার ইচ্ছে আছে।

 মৌসুমী প্রসঙ্গে দুটি ঘটনার উল্লেখ করছি। প্রথম ঘটনা: ১৭ সেপ্টেম্বর ’৮৯ আজকাল পত্রিকায় সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় অমিতাভ চৌধুরী লিখলেন, ‘মৌসুমীকে নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে বছর দুয়েক। মৌসুমী যে একটি অসাধারণ প্রতিভা সে বিষয়ে কোন কাগজেরই দ্বিমত নেই। কিন্তু যে মেয়ে বলে আগামী আড়াই বছরের মধ্যে অর্থাৎ সাড়ে ন’বছর বয়সে সে নোবেল প্রাইজ পাবে, তখন সন্দেহ হয় তার এই প্রতিভা ঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে তো? তাছাড়া সেদিন রবীন্দ্রসদনে সে প্রতিভার পরিচয় দিলেও অন্নদাশঙ্কর যেসব ইংরেজি প্রশ্ন করেছিলেন, তার বাংলা অনুবাদ করে দিতে হয় পাশে বসা কৃষ্ণ ধরকে।... ‘মৌসুমীর বিস্ময়কর প্রতিভা স্বীকার করে নিয়েও বলতে ইচ্ছে করছে, একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে না? প্রথমত একটা রঙ্গমঞ্চে তাকে হাজির করে একমাত্র তার বাবাই অনবরত প্রশ্ন করে যাবেন এবং সে সবকটির নির্ভুল উত্তর দেবে—এর মধ্যে কোথাও কোনো গণ্ডগোল আছে বলে মনে হয়—।”