....‘মৌসুমীর প্রতিভা যাচাইয়ের ভার তার বাবার ওপর না ছেড়ে অন্য কোন বিশেষজ্ঞ কমিটির হাতে দেওয়া উচিত।’
দ্বিতীয় ঘটনা: আদ্রা থেকে ফেরার পর মৌসুমী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে সম্পাদক অশোক দাশগুপ্তের সঙ্গে মৌসুমীর প্রসঙ্গ নিয়ে ফোনে কথা হয়। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, মৌসুমী অন্য পত্রিকা প্রতিনিধিদের সামনে অত দ্রুততার সঙ্গে টাইপ করছে কী করে?
বলেছিলাম, “সাংবাদিকদের সামনে মৌসুমী টাইপ করেছিল নিশ্চয়ই ওর মা-বাবার এগিয়ে দেওয়া কোনও বইয়ের অংশ, যেসব অংশ ও দীর্ঘকাল ধরে টাইপ করে করে অতি অভ্যস্ত।” মৌসুমীর অসাধারণ সব উত্তরদান প্রসঙ্গে জানিয়েছিলাম, “সাধারণত মৌসুমীকে প্রশ্ন করার দায়িত্ব পালন করেন সাধনবাবু স্বয়ং। এমনভাবে উনি প্রশ্ন করা শুরু করেন যেন সাংবাদিকদের সাহায্য ও সহযোগিতা করতেই ওঁর প্রশ্নকর্তার ভূমিকা নেওয়া। সাধনবাবুর বাক্য-বিন্যাসে মোহিত হয়ে এরপর কেউ যদি সাধনবাবুর ধরনের প্রশ্ন করতে থাকেন, তবে দেখা যাবে মৌসুমী সঠিক উত্তর দিয়ে চমকে দিচ্ছে। সাধনবাবু দ্বারা চালিত না হয়ে প্রশ্ন করলে অর্থাৎ প্রকৃত পরীক্ষা করলে মৌসুমীর তেমন বিস্ময়কর প্রতিভার কিন্তু হদিশ মিলবে না।”
১৭ সেপ্টেম্বর ’৮৯ ‘আজকাল’, ‘রবিবাসর’-এর একটা পুরো পৃষ্ঠা ছিল মৌসুমীকে নিয়ে লেখায় ও ছবিতে সাজানো। তাতে ছিল মৌসুমীর এক দীর্ঘ ইণ্টারভিউ। ইণ্টারভিউ নেওয়া হয়েছিল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরে। নিয়েছিলেন অরুন্ধতী মুখার্জি। শ্রীমতী মুখার্জির লেখা দুজনের কথোপকথনের কিছু অংশ এখানে তুলে দিচ্ছি। “মৌসুমীকে প্রশ্ন এবার ভার নিলেন ওর বাবা-সাধন চক্রবর্তী। জিজ্ঞেস করলেন, আগামী, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার কী কী উদ্দেশ্য। মৌসুমী প্রথমত, দ্বিতীয়ত করে পাঁচটি পয়েণ্ট টানা মুখস্থ বলে গেল। অদ্ভুত দ্রুত উচ্চরণে—একবারও না থেমে। আর আমি সুযোগ পেলাম না। ওর সাত বছরের মেয়ের পক্ষে নিতান্ত অনুপযুক্ত প্রশ্ন করে চললেন ইংরেজিতে। ইংরেজিতে উত্তরও। সবই সঠিক। গড়গড় করে উত্তর-কোন অ্যাকসেণ্টের বালাই না রেখেই। বিজ্ঞান, অঙ্ক, ইতিহাস সবের ওপর প্রশ্নবাণ ছুঁড়লেন তিনি। একটি বাণও বিদ্ধ করতে পারেনি তার মেয়েকে।”....“প্রায় আধ ঘণ্টা চলল বাবা মেয়ের ক্যুইজ টাইম। জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি যা বলছ বাংলায় বলতে পারবে?”
পাশ থেকে ওর বাবা—হ্যাঁ পারবে।