পাঠক-পাঠিকাদের অবগতির জন্য জানাই ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’-এর প্রথম খণ্ডে সেইসব গোপন কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছি বহু ছবি সহ)। তাঁরা কেউই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শূন্যে উঠে পারেননি। এ এক নতুনভাবে শূন্যে ভাসা, নতুন পদ্ধতিতে শূন্যে ভাসা।
২৯ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে আমাদের সমিতির জ্যোতি মুখার্জিকে সঙ্গী করে তাজ বেঙ্গল হোটেলে পৌঁছলাম। তখন হোটেলের লাউঞ্জে আলির খবর সংগ্রহ করতে সাংবাদিক ও চিত্র-সাংবাদিকদের ভিড়। শুনলাম, তিনদিন ধরে সকাল থেকে রাত এঁরা ঘাঁটি গেড়ে রয়েছেন। কিন্তু আলিকে যাঁরা এদেশে এনেছেন তাঁদের হার্ডেল টপকে ৩২৪ নম্বর ঘরে ঢুকে আলির সঙ্গে আলাপ জমাবার সুযোগ পাননি কেউই। আলি একতলার রেস্তোরাঁয় এলে বা বাইরে বেরুলে আলিকে ফিল্ম বন্দি করার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে বটে, কিন্তু নিশ্ছিদ্র পাহারা এড়িয়ে কথা বলার তেমন সুযোগ জুটছে না।
‘আজকাল’-এর সাংবাদিক অনুরূপ ভৌমিক ও চিত্র-সাংবাদিক সজল মুখার্জির দেখা পেলাম হোটেল লাউঞ্জেই। তারপর প্রতীক্ষা। আলির মুখোমুখি হতে পারলেও তাঁর মতো বিশাল ব্যক্তিত্ব আমার অনুরোধকে মর্যাদা দিয়ে আবার শূন্যে ভেসে দেখাবেন কি না, এ বিষয়ে আমারও সন্দেহ ছিল। কিন্তু এখানে এসে দেখছি—প্রবেশাধিকারের হার্ডেলই এভারেস্টের উচ্চতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এরই ফাঁকে আলাপ হল আলির জীবনী নিয়ে গড়ে ওঠা ‘দ্য হোল স্টোরি’র পরিচালক লিণ্ডসে কেনেল-এর সঙ্গে। জানালেন, ‘দ্য হোল স্টোরি’র শুটিং উপলক্ষেই তাঁর ভারতে আগমন। ছবিটির প্রযোজক মহমেডান ক্লাবের সহ-সভাপতি মির মহম্মদ ওমরের দাদা। খরচ হবে কয়েক লক্ষ ডলার। সারা পৃথিবীতে ছবিটি মুক্তি পাবে।
মির মহম্মদ ওমরের সহযোগিতায় ৩২৪ নম্বর ঘরে আলির মুখোমুখি হলাম। তখনও দুটো হার্ডেল অতিক্রম করা বাকি। এক: আলির শূন্যে ভাসা দেখা, দুই: শূন্যে ভাসার রহস্যভেদ। শেষ পর্যন্ত কি ঘটেছিল? না, আমি আর মুখ খুলছি না। আপনাদের নিয়ে যাচ্ছি ৩০ ডিসেম্বর ‘আজকাল’-এর প্রথম পৃষ্ঠায়। আলি এবং আমার ছবি সহ প্রতিবেদনটি থেকে কিছুটা অংশ তুলে দিচ্ছি।