ঘুম আসছে। একটু একটু করে চোখের পাতাগুলো ভারী হয়ে আসছে। ঘুম আসছে।” সম্মোহন প্রসঙ্গে ‘অলৌকিক নয় লৌকিক’ বইয়ের প্রথম খণ্ডে বিস্তৃত ব্যাখ্যা আছে। তাই এখানে সম্মোহন বিষয়ে আবরা বিস্তৃত আলোচনায় গেলাম না। এক সময় রেণুর বন্ধ চোখের পাতার দিকে তাকিয়ে বুঝলাম ও এখন সম্মোহিত। চোখের পাতার নিচে মণি দুটো এখন স্থির।
টেপ-রেকর্ডারটা চালু করে দিলাম। শুরু করলাম প্রশ্ন। উত্তর দিয়ে যাচ্ছিল রেণু।
আমি—তোমাকে বাড়ির সকলে ভালবাসে? নাকি কেউ কেউ তোমাকে মোটেই পছন্দ করে না?
রেণু—বাড়ির সকলেই ভালবাসে।
আমি—আমি তোমাকে একটা করে নাম বলছি, তুমি বলে যাবে তারা ভালবাসে কি না? দিদা?
রেণু—ভালবাসে।
আমি—নিত্যদা?
রেণু-ভালবাসে।
আমি—বউদি?
রেণু উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইল। আবার জিজ্ঞেস করলাম—বউদি?
রেণু—হ্যাঁ, ভালই বাসে।
বুঝলাম, রেণু বউদিকে তেমন পছন্দ করে না।
আমি—রেখাদি?
রেণু—ভালবাসে।
আমি—ছন্দা?
রেণু—ভালবাসে।
আমি—সত্যদা?
রেণু—ভালবাসে।
আমি—চিত্তদা?
রেণু—চিত্তদা, চিত্তদা, চিত্তদা সুজাতাকে ভালবাসে।
আমি-তুমি চিত্তদাকে ভালবাস?
রেণু—হ্যাঁ।
আমি—তুমি চিত্তদাকে খুব ভালবাস?
রেণু—হ্যাঁ।