জিজ্ঞেস করতেই বললেন,—“হ্যাঁ, পত্রিকায় খবরটা পড়েছি বটে, তবে ওই পর্যন্তই—”
“সে কী!” আমি আতঁকে ওঠার ভান্ করি, “এই ব্যাপারে পুলিশমহল তোলপাড়। পরপর কয়েকজন ট্যাক্সিচালক নাকি সংশ্লিষ্ট থানায় এসে ভূত সম্বন্ধে অভিযোগও করে গেছে—”
“না মশাই, আলিপুর থানা কেন, কোনো থানাতেই এই ধরনের রিপোর্ট বা ডায়েরির খবর আমাদের কাছে নেই।”
“এই বিষয়ে আপনার নিজস্ব কোনও মতামত...”
“এই বিষয়ে কী আর বলব? বলতে পারি, খবরটা শুধু পত্রিকায় দেখেছি। আমাদের কাছে ভূতের কোনো খবর নেই। এই বিষয়ে আরও খবর পেতে আপনি বরং সরাসরি, আলিপুর পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করুন।”
যোগাযোগ করলাম আলিপুর পুলিশ স্টেশনের সঙ্গে।
উনত্রিশে জুনের দুপুর। অফিসার ইনচার্জ শ্রী তারক গাঙ্গুলি সে সময়ে উপস্থিত ছিলেন না থানায়। কোনো কাজে বেরিয়ে ছিলেন। ডিউটি অফিসার এ. এস. আই. শ্রী পি. কে. নাগের সঙ্গে কথা হল। যথেষ্ট সহযোগিতা করলেন তিনি।
শ্রী নাগ জানালেন, “না মশাই, এ যাবৎ এই থানায় কোনো ট্যাক্সি-ড্রাইভার এই ধরনের কোনো ডায়েরি তো দূরের কথা, কোনো রিপোর্টও করেনি। পত্রিকা বিশেষ করে যে জায়গাটার কথা বলেছে সেখানে আমাদের পুলিশ কনস্টেবল সারারাত পাহারা দেয়। তারাও ভূত নিয়ে কোনো দিন কোনো রিপোর্ট করেনি।”
হায়! ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল আমার বুক ঠেলে। শেষ পর্যন্ত এমন একটা রোমাঞ্চকর ভূতুড়ে ব্যাপার নেহাৎই মাঠে মারা যাবে?
শেষ চেষ্টা হিসেবে জ্বলে ডোবার আগে খড়কুটো ধরার মতো ধরলাম কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তরের ডেপুটি কমিশনার নম্বর ওয়ান শ্রী সুবিমল দাশগুপ্তকে। স্মার্ট চেহারার অসাধারণ ঝকঝকে চোখের অধিকারী সুবিমলবাবুকে পুলিশ ভূতের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনাদের গোয়েন্দারা নাকি হাজার মাথা ঘামিয়েও এই ভৌতিক রহস্যের কিনারা করতে পারেননি? এখন একটা শাস্তি-স্বস্ত্যয়নের কথা ভাবছেন?”
সপ্রতিভ কণ্ঠে শ্রী দাশগুপ্ত উত্তর দিলেন, “ওই ভূতের ব্যাপারটা পুরোপুরি মিথ্যে। এমন কোনো ঘটনাই আদপে ঘটেনি, সুতরাং আমাদের দপ্তরের মাথা ঘামাবারও কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”