পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অশনি-সংকেত প্রায় কাঁদো কাঁদো হয়ে উঠলেন উনি । গঙ্গাচরণ আশীবাসের ভঙ্গিতে 'বললে--হাঃ, গোবধ ! বলে কত কত শক্ত কান্ডের জন্যে শান্তি-বস্ত্যয়ন করে এলাম ! কোনো ভয় নেই, যান। আপনি । অনঙ্গ স্বামীর কৃতিত্বে খাশি না হয়ে পারলো না যেদিন গঙ্গাচরণ বিশ্ববাস মশায়ের বাড়ী থেকে একরাশি জিনিসপত্র বহন করে বাড়ী নিয়ে এল। একগাল হেসে বললে-দেখি শাড়ীখানা ? বাঃ, চমৎকার কস্তাপোড়ে-গাওয়া ঘি ? কতটা ? --তা আছে পাকি তিনপোয়া। বাড়ীর তৈরী খাঁটি ঘি । -এইবার একবার ভাতছালা বেড়িয়ে আসি, কি বলে ? --বিদ্বেস মশায়কে বলেও এসেছি। গরুর গাড়ী দেবে বলেচে--তুমি যাবে না ? -আমার কি সময় আছে যে যাবো ? ছেলে পড়াতে হবে না ? তুমি যাও ছেলেদের নিয়ে। এসময়ে টাকাও পেয়েচি দটাে । একটা থােক, একটা খরচ করে এসো। কিন্তু যাই যাই করে শীত কেটে গিয়ে ফালগন মাস পড়ে গেল। তখন অনঙ্গ একদিন বিশ্ববাস মশায়ের গরর গাড়ীতে ছেলেদের নিয়ে ভাতছালা রওনা হােল। দ’ক্লোশ পথ গিয়ে কাঁটালিয়া নদী পার হতে হােল জোড়াখেয়া নৌকোঁতে গরীর গাড়ীসদ্ধ। অনঙ্গ-বেয়ের বেশ মজা লাগলো এমনভাবে নদী পার হতে । ওপরে উচু ডাঙায় নদীতীরে প্রথম বসন্তে বিম্ভর ঘেটুফুল ফুটে আছে, বাতাসে ভুর ভুর করচে। আমের বউলের মিণ্ট সাবাস, আকাবাঁকা শিমলগাছেরাঙাফুল ফুটে আছে । অনঙ্গ ছেলেদের বললে-এখানে এই ছায়ায় বসে দটাে মাড়ি খেয়ে নৌ-কখন ভাতছল। পৌছবি তার ঠিক নেই । বড়ছেলেটা বললে-ও, কি আমের বোল হয়েচে দ্যাখো সব গাছে। এবার বড় আম হবে, না মা ? --খেয়ে নে মাড়ি । আমের বোল দেখবার সময় নেই এখন । ছেলে দটি হুটোছটি করে বেড়াতে লাগলো নদীর পাড়ে গাছপালার ছায়ায় ফড়িং ধরবার জন্যে । অনঙ্গ ওদের বকেবাকে আবার গাড়ীতে ওঠালে । নিস্তবধ ফালগন-দর্পারে মেঠোপথে আমবন, জাম, বট, বাঁশি, শিমলগাছের ছায়ায় ছায়ায় গরর গাড়ীর ছাইয়ের মধ্যে বসে অনঙ্গ-বোয়ের ঝিমনি ধরলো। বড়ছেলে বললে—ম, তুমি ঢুলে পড়ে যাচ্চ যে, উঠে বোসো। অনঙ্গ অপ্রতিভ হয়ে বললে-চোখে একটু জল দিলে হোত। ঘািম আসচে। ভাতছালা পৌঁছতে বেলা পড়ে গেল । গাড়োয়ান বললে-তবাসকালে সকালে এসে গ্যালাম মা-ঠাকারেণ । ন’কৈাশ স্নাষ্টা আমাদের গা থে। । গরীব্দটোর সাধার বয়েস তাই আসতে পারলে। ভাতছালাতে অনঙ্গ-বোয়ের ঘর ছিল গ্রামের বাগদি পাড়া থেকে অলপদারে খাব বড় একটা বিলের কাছে । একখানা খড়ের ঘর, সঙ্গে ছোট একখানা রান্নাঘর, অনেকদিন কেউ না। থাকতে চালার খড় কিছ, কিছ, উড়ে পড়েচে, মাটির দাওয়াতে ছাগল গর, উঠে খড়ে ফেলেচে। উঠোনের চারিধারে বাঁশের বেড়া দেওয়া ছিল, ফাঁকে ফাঁকে রাংচিতার গাছ। বেড়ার শকিনো বাঁশি লোকে ভেঙে নিয়োচে অনেক ।