পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ని অশনি-সংকেত অনঙ্গ-বেী হাবকে সকালে উঠেই বলেচে-একটা মোচা নিয়ে আয় তো তোর সয়াদের लाक् ८थ ! স্ত্রীকে মোচা কুটিতে দেখে গঙ্গাচরণ বললে-আজ যে অতিথি সংকারের খব। বহর দেখচি --ভারি তো । একটু মোচার ঘণ্ট রধিবো, আর একটু সঙ্কনি----- --বেশ বেশ । অতিথির দোহাই দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও হয়ে যাবে। -হ্যােগা, পণ্ডিত মশাই বড় গরীব, না ? দেখে বড় কষ্ট হয়। কি রকম কাপড় পরে এয়েচে, পায়ে জাতো নেই । --তা অবস্থা ভালো হলে কি সাত টাকা মাইনেতে পড়ে থাকে পাঠশালায় ! আজি ওকে একটু ভালো করে খাওয়াও । -একটু দািধ যোগাড় করে দেবে ? --দেখি যদি নিবারণ ঘোষের বাড়ীতে মেলে । ওটা কাঁচকলার মোচা নয় তো, তাহলে কিন্তু এত তেতো হবে যে মাখে দেওয়া যাবে না তরকারি। --নাগো, এ কাঁটালি কলার মোচা । আমাকে তুমি আমার কাজ শেখাতে এসো না বলচি দপারবেলা দােগা পণ্ডিত খেতে এসে সপ্রশংসা বিস্ময়ের দণ্টিতে পাতের দিকে চেয়ে বললে-এ যে রীতিমত ভোজের আয়োজন করেছেন দেখচি ? আহা, বৌমা সাক্ষাৎ লক্ষী । এত সব রোধেচোন বসে বসে ? ওমা, কোথায় গেলে গো মা ? অনঙ্গ-বেী ঘরে ঢুকে সকুণ্ঠিত সলন্তর্জভাবে মািখ নীচু করে রইল । দােগা পণ্ডিত ভাল করে মোচার ঘণ্ট দিয়ে অনেকগলো ভাত মেখে গোগ্রাসে খেতে খেতে বললে--সত্যি, এমন তৃপ্তির সঙ্গে কতকাল খাই নি । গঙ্গাচরণের মনে হােল দােগা পণ্ডিত কিছমাত্র বাড়িয়ে বলচে না । ওর সবরে কপট ভদ্রতা নেই। সত্যি কথাই বলচে ও, এমন কি অনেক দিন পরে ও যেন আজ পেট ভরে দটি ভাত খেতে পেলে { অনঙ্গ-বেী বললে-ও হাব, বল আর কি দেবো ? মোচার ঘণ্ট আর একটু আনি ? পরিশেষে ঘন জনাল দেওয়া এক বাটি দধি আর নতুন আখের গড়। দােগা পণ্ডিত সত্যিই অভিভূত হয়ে পড়েচে, খাওয়ার সময় ওর চোখ দ’টাে যেন কেমন ধরনের চকচক করাচে । শীণ চেহারা শািন্ধ বোধ হয় না খেয়ে খেয়ে । অনঙ্গ-বৌয়ের মনে মমতা জন্মালো। তাদের যদি অবস্থা থাকতো দেবার, ইচ্ছে হয় রোজ ওই অনাহার-শীণ দরিদ্র পশ্চিডত মশাইয়ের পাতে এমনিতর নানা ব্যঞ্জন সাজিয়ে খেতে দেয় । --আসি বোমা, আপনাদের যত্নের কথা ভোলবো না কখনো । বাড়ী গিয়ে মনে রাখবো । অনঙ্গ-বৌয়ের চোখ দ’টি অশ্রােসজল হয়ে উঠলো। -যদি কখনো না খেয়ে বিপদে পড়ি, তুমি একটু ঠাই দিও মা অন্নপণা। বহুভ গরীব ज्याभि । দািগ পণ্ডিতের অপক্ৰিয়মাণ ক্ষীণদেহ আমা-শিমলের বনের ছায়ায় ছায়ায় দীর থেকে দরাস্তরে গিয়ে পড়লো অনঙ্গ-বৌয়ের স্নেহদাল্টির সম্মখে {