পাতা:অসমীয়া সাহিত্য.pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অসমীয়া সাহিত্যের শৈশব ও কৈশোর মান্দাসরে বণিত রাজা যশোধমের সাম্রাজ্যও কামরুপ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল বলিযা মনে হয়। রাজ্যমতীর পিতা হষ দেব ভগদত্তবংশজাত বলিয়া খ্যাত এবং তাঁহার স্বামী লিচ্ছবী রাজ দ্বিতীয় জয়দেব গৌড়, ওড্র, কলিঙ্গ, কোশলাধিপতি ছিলেন বলিয়া প্রকাশ। কুমারিলের তন্ত্রবাতিককে ৮oo শত খীস্টাব্দের গ্রন্থ বলিয়া পণ্ডিতগণ ধরেন। ইহার তৃতীয় পটলে তন্ত্রবিদ্বেষক বজনীয় ব্যক্তির বণনায় কামরুপ ও কলিঙ্গের নাম আছে। তন্ত্রসারেও কামরুপের উল্লেখ আছে—মলাধারে কামর,পং আবার নবরত্নেশ্বরে কামগিযালয়ে মিত্রীশনাতাত্মকের পজা আছে। যেমন জালন্ধর পীঠের নায়কের নাম ষাঠীশনাথাত্মক। এই প্রসঙ্গে নাথ নামটি প্রণিধানযোগ্য। কালিকাপুরাণে বর্ণিত আছে যে নরক বিদেহরাজ্যে প্রতিপালিত হইয়াছিলেন এবং প্রাগজ্যোতিষপরে জয় করিয়া কিরাতরাজ ঘোটককে নিধন করেন। শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদাবিনোদের মতে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে কামরুপে বহন ব্রাহরণ ও কায়ন্থের বাস ছিল। কামরুপের এক একটি গ্রামে প্রায় দুইশত ব্ৰাহয়ণ বাস করিত। হিউয়েনচাঙ শতশত দেবমন্দির দেখিয়াছিলেন এবং মিথিলায় কথিত ভাষার সহিত কামরুপের ভাষার যথেষ্ট সাদশা দেখিয়াছিলেন। নিধানপরে তামশাসনে ভাস্করবমর্পাকে প্রকৃত্ট আযfধমের রক্ষক বলিয়া বণনা করা হইয়াছে। হেমকোষে আসামকে বলা হইয়াছে কলিতা বা কুললতের দেশ। এইরুপ কিম্বদন্তী আছে যে পরশুরাম যখন ক্ষত্ৰিয়নিধন যজ্ঞ আরম্ভ করেন তখন জামদগ্নিরোষ হইতে পরিত্রাণ পাইবার জন্য অনেক ক্ষত্রিয় নিজেদের কলিত বা কুললাপত বলিত। হিউয়েনচাঙএর ভ্রমণকাহিনী, বাণভট্টর হৰ চরিত, তৎকালীন শাসনমালা কামরপাধিপতি ভাস্করবমর্ণর সম্বন্ধে যথোট তথ্য সরবরাহ করে। ভাস্করবমর্তা ‘শশিশেখরপ্রিযাপনাকিন’এর ভক্ত, অর্থাৎ শৈব ছিলেন বলিয়াই মনে হয়। ববাহর পী নারায়ণের কথাও তাঁব লিপিতে পাওয়া যায়, এবং তিনি যে বৌদ্ধধমের প্রতি অনুরাগী ছিলেন তাহারও প্রমাণ আছে। হর্ষবর্ধনকে তিনি যেসমস্ত দ্রব্য উপহার দিয়াছিলেন তাহা হইতে তৎকালীন কামরুপের একটা সনসংগত চিত্র পাওয়া যায়- হালালি সিলেকর জামা, অতি মোলায়েম চামড়া, একটি মণিমাণিক্যখচিত ছত্র, অতি সন্দর বক্ষত্বকের উপর লিখিত ও খোদিত পুস্তক, অগরে চন্দন মগনাভি চিত্রিত ও মসৃণ মাদর, সবণ"পিঞ্জরে হংসমিথন, অতি মিহি সীতা ও মাগার পঢ় বস্ত্র, পনস, নারিকেল ও এক কলসী তরল গডে। বর্মণ-বংশের ভাস্করবমর্ণই সবাপেক্ষা প্রসিদ্ধ নরপতি ছিলেন। বর্মণবংশ, শ্লেচ্ছবংশ, পালবংশ চতুর্থ শতাব্দী হইতে দবাদশ শতাব্দী পর্যন্ত কামরুপে রাজত্ব করেন এবং ইহারা সকলেই নরক ভগদত্ত হইতে অথাৎ অসুর বংশ হইতে উৎপত্তি গণনা করিতেন। শালস্তম্ভ বংশের রাজারা কামেশ্ববর মহাগৌরীর উপাসক ছিলেন । , কামাখ্যা ও হাটকেশ্বরের মন্দির তাঁহারাই নিমাণ করেন। ঐসব মন্দিরে দেবদাসীদের উৎসগ করা হইত। শঙ্করবিজয় গ্রন্থে বণিত হইয়াছে যে শঙ্করাচাৰ্য কামরাপ আসিলে অভিনবগাপত তহিকে তান্ত্রিক অভিচার ক্লিয়ার দ্বারা অসুস্থ করিতে চেষ্টা করিয়াছিলেন। মীননাথ প্রভৃতি কাপালিক সিদ্ধদের কথাও কামরুপে শোনা যায়। সহজিয়া সাধনও প্রচলিত ছিল বলিয়া মনে হয়। নিধানপরে তাম্রশাসনের তিন শত বৎসর পরে ধর্মপাল বমদেবের তাম্রশাসনে অধনারীশ্বরের কল্পনা দেখি । তাঁর গলার একদিকে দোলে লীলাপদ্ম, অন্যদিকে উদ্যতফণা ফণী, তাঁর বরবপর একদিক সতনভারনম্র আর একদিক ভস্মাচ্ছাদিত, যিনি শতগার ও রৌদ্ররসের প্রতীক।