পাতা:অসমীয়া সাহিত্য.pdf/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীমন্ত শঙ্করদেব ও পরবতীর্ণগণ 8○ জয়দেবের গীতগোবিন্দের অনরাপ ভারতের নানা পথানে গাঁতমাধব গীতবাসব প্রভৃতি গ্রন্থ রচিত হয়। দক্ষিণেও ভক্ত তাঁথানারায়ণ কৃষ্ণলীলাতরঙ্গিণী, কবি ও সাধক ক্ষেত্রজ্ঞ বহল পদাবলী, কবি জ্ঞানেশ্বর গীতার ব্যাখ্যা, কবি তুকারাম, কবি একনাথ নানা অভঙ্গ পদ রচনা করেন। ত্যাগরাজ, মথস্বামী দীক্ষিত, শ্যামশাস্ত্রী প্রভৃতি পরবতীয়াগের। সারা ভারতবর্ষ জড়িয়া বৈষ্ণব সংস্কৃতির এক উদাররাপ ব্যাপ্ত হইয়াছিল এবং মহাপর্ষ শঙ্করদেব তাহাকে আসামে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছিলেন। শ্যামশাস্ত্রী ছিলেন কাঞ্চীর কামাক্ষীদেবীর ভক্ত। ঐতিহাসিকেরা বলিতে পারবেন এই কামাক্ষীর সহিত নীলাচলবাসিনী কামাখ্যার কোনো সম্পক আছে কিনা। নত্য সহযোগে এইসব ভগাভক্তিমলক গীত হইত। দেবদাসীরা প্রতি মন্দিরে এইসব পদ সললিত স্বরে গাহিতেন। দক্ষিণে আমরা পাবতীকে ‘বীণাবাদিনী মাতঙ্গী রাপেও দেখিয়াছি—অধৰনারীশ্বরের কল্পনা দেখিয়াছি রাগ ও রাগিণীর যুক্ত মিলনে। মহালক্ষয়ীকেও দেখিয়াছি বরবীণা মদপাণি’রপে। আসামের বরগীতগুলি সরে ও সাহিত্যের সন্মিলন। লোচন পণ্ডিতের রাগতরঙ্গিণী অনুসারে শুদ্ধ-সপত স্বরে কোমলধৈবত হইলে মলে রাগ হয়। কিন্তু শঙ্করদেব বহ সঙ্কররাগের প্রচলন করিয়া গিয়াছেন, যেমন রাগ মধমাধবী, তুরবসন্ত ইত্যাদি। মহাপরাষ শঙ্করদেবের আবিভাবের বহর পব হইতেই অসমীয়া ওজাপালির অনুষ্ঠান চলিয়া আসিতেছে। বেহালা লখিন্দরের গান, মনসা ভাসান, মনসামঙ্গল প্রভৃতি গ্রাম্য অঞ্চলে গীত হইত। শ্রদ্ধেয় শ্ৰীষত্তে বাণীকণ্ঠ কাকতি মহাশয় বলেন, ‘সাহিত্য আর ধর্ম জগত সেই বোরে নতন যগের আগমন সচেনা করিছিল। একালে লোকরঞ্জন আর আন কালে অতকিতভাবে আধ্যাত্মিকতার ওখ আদশলৈ জনসমাজর মন আকষণ—এয়ে অসমীয়া গীতসাহিত্যত বরগীতর ঐতিহাসিক বিশেষত্ব। কথিত আছে যে কুচবিহারের বীর চিলারায় তাঁহার ভাযা কমলপ্রিয়াদেবীর মুখে পামর মন রামচরণে মন দেহ এই গীতটি শুনিয়া শঙ্করদেবের শ্রীচরণে আশ্রয় নেন। প্রত্যেক সমাজের ইতিহাসে দেখা যায় যে যখনই কোনো ভাবপলাবন আসিয়াছে তখনি নানা দিকে সমাজে তাহা সফতি পাইয়াছে। বকুল কায়সেথর কিতাবতমঞ্জরী নামক গণিতের পস্তেক, কবিরত্ন দিবজের জ্যোতিষচড়ামণি, পরে ষোত্তম ঠাকুরের প্রযোগরত্নমালা ব্যাকরণ প্রসিদ্ধ। অনন্ত কন্দলী ও রাম সরস্বতীর কথা পবেই বলিয়াছি। প্রসিদ্ধ পদমপুরাণের কবি মনকর, দগাবর, ষষ্ঠীবর প্রভৃতি বহন কবির নাম পাওয়া যায়। কবীন্দ্র সঞ্জয় রচিত পরাগল খাঁর অনুরোধে লিখিত পরাগলী মহাভারত চট্টগ্রামে লিখিত মহাভারত বলিয়া শ্রীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন দাবী করিয়াছিলেন। কোনো কোনো অসমীয়া সাহিত্যিক ইহাকে অসমীয়া ভাষায় পদমহাভারত বলিয়া পালটী দাবী করেন। তখনকার দিনের বাংলা ও অসমীয়া প্রধানতঃ লৌকিক সাহিত্য এবং এক মল হইতে উৎপন্ন, এবং এখনকার দিনের ভৌগোলিক সীমার কঠিন বিচারও ছিলনা। & অনন্ত কন্দলীর কুমরহরণ, মহীরাবণ বধ, জন্মরহস্য কথাসত্র, বত্রাসার বধ প্রভৃতি বহ গ্রন্থ আছে। রাম সরস্বতীও ভীমচরিত, লক্ষীচরিত, কুলাচল বধ, বখাসরে বধ, ভীমপব, দ্রোণপব ইত্যাদি কাব্য রচনা করেন, শঙ্করদেবের আদেশে মহাভারতেরও কিছর অনুবাদ করেন। ইহার উপাধি ছিল ভারতচন্দ্র, ভারতভূষণ ও কবিচন্দ্র।