পাতা:অসমীয়া সাহিত্য.pdf/৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


88 অসমীয়া সাহিত্য লক্ষীচরিতে সলক্ষণা নারীর মধ্যে লক্ষী বাস করেন, এই কথা বলিতে গিয়া নারীর বণনা যা করিয় তাহাতে কাব্যরসের বেশ আমবাদন আছে— ললিত বলিত অঙ্গ কোমল লোচনা। ঈষত হসিত মাখ মরাল গমনা ৷ গৌরবণা মদমিত ভাষিণী বিমলা। মধ্যক্ষীণা দয়াবতী সবার সশীলা ॥ ভীমচরিতে দেখি পাবতী শিবকে বলিতেছেন— ভিক্ষার চাউলে জানা পেট নাপরয়। অতএব কৃষিকম কর। এবং কি ভাবে কৃষিকম করিতে হইবে তাহার মন্ত্রণা দিতেছেন। মহাপুরষ শঙ্করদেব মাধবদেবের বৈষ্ণব আন্দোলন রামায়ণ, মহাভারত পরাণের আখদার মধ্য দিয়া জনচিত্তোপযোগী কাব্যে গাথায় নাট্যে রপোয়িত হইয়া | বখাসরে বধ, কুলাচল বধ, প্রভৃতি বধ কাব্যগুলিকে নিছক মধ্যযুগীয় allegoryর সঙ্গে তুলনা করিলে ইহার সাহিত্যরস বিচার হইবেনা। এইসব পৌরাণিক কাহিনী হিন্দু সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে বিজড়িত। ইহার মধ্যে কামক্ৰোধলোভমোহমদমাৎসষের রপেক থাকিলেও কাহিনীগুলির সাধারণ অর্থ করাই কাম ক্ৰোধ কুত্তা খেদি যায়। রত্নাকর কন্দলী, শ্রীধর কন্দলী, সাবভৌম, গোবিন্দমিশ্র, বিদ্যা পঞ্চানন, কংসারি প্রভৃতি কবিগণ এই যুগের শঙ্করদেব মাধবদেবের সমসাময়িক। ভবানীপুরিয়া গোপাল আতা, গোপাল মিশ্র, দামোদর বিপ্ৰ, দামোদর দাসও প্রসিদ্ধ। গোপাল আতার ঘোষারত্ন, শঙ্খচড়বধ মহিষাসুর বধ প্রভৃতি পুথি আছে। পরের যুগে কবিরাজ চক্লবতীর লিখিত ধম ধরজ কুশধরজের কন্যা বেদবতীর উপাখ্যান অবলম্বনে আর-একটি শঙ্খচড়বধ কাব্য পাওয়া যায়। চরিতকারদের মধ্যে রামচরণ, রামানন্দ ও দৈত্যারি ঠাকুর প্রধান। শঙ্কর চরিত, গর চরিত প্রভৃতি শঙ্করদেবের জীবনী অবলম্বনে চৈতন্যচরিতামত, চৈতন্যভাগবত ইত্যাদি গ্রন্থের সমতুল্য। শঙ্করদেব মাধবদেবের তিরোধানের পর তাঁহাদের পত, চরিত্র ও জীবনী কাব্যে লিপিবদ্ধ করিবার একটি প্রথা দেখা যায় ও ইহা হইতেই চরিত-সাহিত্যের উদ্ভব। কৃষ্ণ ভারতীর সন্তনির্ণয়, ভট্টদেবের সৎসম্প্রদ্ধায়ের কথা, রামনাথের সন্ত মুক্তাবলী চরিতসাহিত্যকে বরঞ্জী ও পৌরাণিক সাহিত্য ও রাজলেখমালার মধ্যবতী এক সাহিত্যবিভাগে পৌছাইয়া দেয়। এই যুগের শেষ প্রতিভা ও প্রতিষ্ঠাবান সাহিত্যিক ছিলেন ভট্টদেব—তিনি দামোদরদেবের শিষ্য। এর কথা-ভাগবত ও কথা-গীতা তৎকালীন অসমীয়া গদ্যের উৎকৃষ্ট নিদর্শন। সাত্নততন্ত্র, ভক্তিসার, শরণসংগ্রহ ইত্যাদি সংস্কৃত পস্তেকেরও রচয়িতা ইনি। চরিতকথাগুলিই অসমীয়া জীবনী-সাহিত্যের আদি, ইহা অস্বীকার করা