পাতা:অসমীয়া সাহিত্য.pdf/৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীমন্ত শঙ্করদেব ও পরবতীর্ণগণ 86. চলে না। কথাগর চরিতের গদ্যরীতি সম্বন্ধে আলোচনা করিতে গিয়া সমসাহিত্যিক বিরিচিকুমার বরয়া বলিতেছেন— “চরিত পুথির সবলতে অপব সাহিত্যিক নিপুণতারে বণনার লগত কথোপকথনর সংযোগ সধা হৈছে। ভাব আর ভাষার সমতা রক্ষাথে আর রীতি সৌষ্ঠবর হেতু দীঘল আর চুটি বাক্যের প্রয়োগ ঘটিছে। কথ্য ভাষার স্বচ্ছন্দ সাবলীল ভঙ্গীর হেতু একেখিনি বর্ণনাতে অথবা একটি ছেদতে নিদেশক আজ্ঞাসচক, প্রশ্নসচক আদি বিবিধ বাক্যরীতির ব্যবহার হৈছে।” কথ্য ভাষায় গল্পের স্বাভাবিক স্রোত কি রকম সন্দেরভাবে বহিয়া যায় তাহার একটি উদাহরণ তিনি দিয়াছেন— “কলিঙ্গ রাজার মুখত বেথা রোগ হল। পাছে দখত রাজা এনে অঙ্গীকার করিলে বোলে মোর বাধি যে এ চার পাবে তাকে মোর অধৰ্রাজ্য দিম । তাকে শুনি অনেক দেশের অনেক বৈদ্য ধন্বন্তরী, অথবাঁবেদী, আহি অনেক টকা বাখর রজত সবেণ ভাঙি জাবণ করি খাবাই দিএ । ফোত মিছা।” কলিঙ্গ দেশের রাজার মুখে ব্যথা রোগ হইল। দঃখে ও কন্টে রাজা অঙ্গীকার করিলেন যে আমার ব্যাধি সারাইয়া দিতে পারবে তাহাকে অধোঁক রাজত্ব দিবেন। এই কথা শুনিয়া অনেক বৈদ্য, ধন্বন্তরী ও অথববেদী আসিয়া অনেক টাকা রৌপ্য লইষা গেল। সবই মিথ্যা। ইহার পরবতী শতাব্দীতেও বৈষ্ণব সাহিত্যের বিস্তৃতির যুগে বহন কবির নাম পাওয়া যায়। রামচন্দ্র বড়পাত্র গোহাঞির হয়গ্ৰীবমাধব, রওগনাথ বিজের চণ্ডী, নীলকন্ঠ দাসের দামোদরচরিত্র, কেশব দাসের ভাগবত, অনন্ত আচাযের আনন্দলহরী, লক্ষীনাথবিজের শান্তিপব, পিথরাজবিজের মষেলপব, রামদিবজের ম্যগাবতী চরিত্র, বিষ্ণরাম দিবজের দাতাকণ, জয়নারায়ণের লক্ষীপতিচরিত্র, কামদেবের অশোকচরিত্র, রামানন্দের শতকরচরিত, রামানন্দবিজের মহামোহ, রামমিশ্রের হিতোপদেশ, দীনদ্বিজবরের মাধবসলোচনা, রুদ্ররাম কবির নীতিরত্ন, গঙ্গারামদাসের সীতার বনবাস, রঘুনাথদাসের কথা-রামায়ণ প্রসিদ্ধিলাভ করিয়াছে। প্রতোক পুস্তক ও তার সাহিত্যিক অবদান সম্বন্ধে আলোচনা অসম্ভব। কিন্তু এই বিশাল সাহিত্য অবহেলার বস্তু নয়। এই বৈষ্ণব পলাবিত যুগেও দেখি অনন্ত গুমাচায্যের আনন্দলহরী তন্ত্রসন্মত সাধনার কাব্যে ইঙিগত— নাভির মুলত মণি পরেক কমল নীল জীমতের বণ সম দশদল . . অনাহত কমলর শনা অতি বাজে। অনাহত কমলের ধবনি সাধক শনিতেছেন—কিন্তু এই তন্ত্ৰ-মতে সাধনা কেন ?— বৈদিক দীক্ষাত বহুশ্রম’। কৃষ্ণানন্দ দিবজের পণ্যভাগবতে “পঞ্চ মহাভূতর আসন কহোঁ শুনা . . ইড়া ও পিঙ্গলা—নাড়ীর বিন্দ বহিছে—এহি স্বরুপ পৰ্ণব্ৰহম সৎসঙ্গত আছে।’ দীনবিজবরের মাধব-সলোচনা নামক পাঁচালী কাব্যটি অতি মনোরম। কবির বর্ণনাশক্তি, উপমাপ্রয়োগ ও রসসটির ক্ষমতা তাঁহার রচনাকে সাথক করিয়াছে। নারীর বাম অঙ্গে কৃষ্ণতিল অতি সুলক্ষণ সন্দেহ নাই। কবি উপমা দিলেন— বাম অঙ্গে আছে কৃষ্ণ তিল এক গোট । সবেণ পবীত যেন অঞ্জনের ফোট ॥