পাতা:অসমীয়া সাহিত্য.pdf/৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 Ꮼ অসমীয়া সাহিত্য বা যেখানে বিক্রম রাজার পত্র মাধব সলোচনার রপখ্যাতি শনিয়া উচ্চৈঃশ্রবার বংশজাত ঘোটকে চড়িয়া সাগর পারে উপস্থিত মালিনীর কুঞ্জে আশ্রয় লইলেন, তখন বিদ্যাসন্দরকেই মনে পড়ে। মালিনী সলোচনাকে স্নানের ছলে নিদ্রিত মাধবের কাছে লইয়া গেল । গানের ধয়ায় কবি দশকদের মনে কাব্যের ভাবী আভাস দিলেন— 'i ছার শয়নসখ, দেখো প্রিয়ার মাখ উঠ উঠ দেব যবেরাজ। কিন্তু সেইদিনই সালোচনার বিবাহের অধিবাসের দিন। কবি অতি সকৌশলে, ঘটনার বিন্যাসে, ভাষার আবেগে গলপটিকে যেরপে বহদের অগ্রসর করিয়া লইয়া গিয়াছেন, তাহা প্রশংসারই যোগ্য। কিন্তু কবি যে মহাশেবতা, যে তপস্বিনী বিছাল অঞ্চল স্তম্ব অবঞ্চল তার প্রতি কাব্যিক সবিচার করেন নাই। কারণ তার মতে— পরেষের অনুরাগ যিমত ভাযাত। নারীর নাহিক তেনে প্রীতি পর্যত ॥ অসমীয়া সাহিত্যের বৃহত্তর ইতিহাসে অঙ্কিয়া নাট একটি বিশিস্ট পথান অধিকার করিয়া আছে। কাব্যের, নাট্যের, কীতানের উপজীব্য ও মল কথা কৃষ্ণকথা প্রচার। নানা রপে, নানা ছন্দে, নানা প্রথায় এই অমর্তনিষ। কাব্যকথা পরিবেশিত হইয়াছে তৃষিত তপত ক্লিটে পৃথিবীর মানুষের জন্য— ভাওনা করিবে কৃষ্ণ পজিবে লাগিয়া । রাপকের মধ্যে ব্যভিচারীভাব থাকিবে না। ধুলিয়া নাচ, পতুলনাচ, ঢাকঢোল জগঝম্প সহিত গান, নানা ক্ৰীড়া কৌতুকের সহিত নতাগীত ও মুখোশ পরিয়া কথাকলি ধরনের নত্যগীতও প্রচলিত ছিল । ওজাপালীর কথা পাবেই বলিয়াছি। পাবত্য জাতিদের মধ্যেও নৃত্যগীতের বিশেষ আদর ছিল ও আজও আছে । মনসাপজায় দেওধানী নাচের রেওয়াজ ছিল। শুভঙ্কর কবির শ্রীহস্তমুক্তাবলীতে এইসব নত্যগীতাদির সবিশেষ পরিচয় পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে সংস্কৃত নাটক" অভিনয়ে বিজয়বৈজয়ন্তীর যুগ, যাঠ ও সপ্তম শতাব্দী। দশম শতাব্দীতে কবি রাজশেখর কপারমঞ্জরী প্রাকৃতে রচনা করেন। অধ্যাপক যাজ্ঞিকের মতে মধ্যযুগীয় মহানাটক অভিনয়ে প্রাচীন প্রাকৃতী রীতির কিছটো বৰ্তমান ছিল। অসমীয়া নাটক এই প্রাচীন রীতি ও ওজাপালীর মিশ্রণ। অসমীয়া নাটকে আমরা সত্ৰধার গায়ন ও বায়ন অর্থাৎ রীতি ও বাদ্যকার দেখি। এখানেও কিন্তু বিদষকের অভাব । ভবভূতির নাটকেও বিদষকের বিশেষ স্থান নাই । • অসমীয়া নাটকের ত্রিমাতি হইতেছে, নাট, যাত্রা ও ঝমেরে। শিশুপশাস্ত্রমতে কলা চৌষট্টি। তন্মধ্যে নত্য, গীত, বাদ্য, নাট্য, চিত্রকরণ, সরঞ্জয়ায় পতুলনাচ, নাটকাদি দশন, মালারচন, পাপবিন্যাস, নেপথ্য বা বেশ রচনা, কেশবিন্যাস, তিলক, রচনা, কৌচুমার অর্থাৎ কুর পকে সরাপ করিবার সাজসজ্জা, মানসী কাব্যক্ৰিয়া, বৈতালিকী বিদ্যা প্রভৃতি প্রধান। স্বয়ং শঙ্করদেব নিজে চিত্রাঙ্কণ বিদ্যা সুভাস করিতেন। চিহ্নযাত্রায়— তুলি হাতে লৈয়া বৈকুন্ঠের পট আকিলা ।