পাতা:অসমীয়া সাহিত্য.pdf/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(; O অসমীয়া সাহিত্য এই তথ্যও তাঁহারা জানিতেন। সেই জন্যই শ্রীরাধার বিশেষ আবিভাব তাঁহাদের সাহিত্যে নাই। অবশ্য মাধবদেবের গীতকবিতায়, রামসরস্বতীর গীতগোবিন্দে ও · কলাপচন্দ্রের রাধাবিজয়ে শ্রীরাধার একটি পণচিত্র অসমীয়া সাহিত্যে আছে, একথা সাহিত্যিকরা বলেন। অসমীয়া সাহিত্যের রাধার মধ্যে শিশসলভ দন্টোমিই আছে, আদিরসাত্মক তীব্রতা নাই। শ্রীরাধা শ্ৰীকৃষ্ণকে চোর অপবাদ দিতেছেন, ভৎসনা করিতেছেন, আবার আলাপ করিতেছেন এই পর্যন্ত। যদিও উদ্ভব গিয়া দেখিলেন যে অসিথচমাসার হইয়া রাধিকা গোসানী কৃষ্ণ চিন্তায় মগ্ন"। ৫. বরঞ্জী সাহিত্য পবপরীষের প্রণাম আমাদের সংস্কৃতির একটা পণ্যে অঙ্গ। কিন্তু আমাদের দনাম যে ভারতবর্ষে ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয় না। পিতৃপুরুষদের শ্রদ্ধা তপণ করি, বলি তৃপাতু', কিন্তু তাঁহাদের শৌয বীর্য, ক্ষয় ক্ষতি, কথা ও কাহিনীর খবর রাখিনা। এ দনাম সত্য কি মিথ্যা, সে সম্বন্ধে নানা মতভেদ থাকিতে পারে। আসামে বরেঞ্জনীকার অতি কৃতিত্ব, শ্রদ্ধা ও আগ্রহের সহিত দেশের ইতিহাস লিপিবন্ধ করিয়া রাখিয়াছেন। এই বরঞ্জৗগলি বহু প্রাচীন নয়, ও তাহাদের ঐতিহাসিকতাকে নানাভাবে কটিপাথরে বিচার করিতে হয়, ইহাও সত্য; তবে কয়েকটি বরঞ্জীতে সাহিত্যিক সম্পদ ফুটিয়া উঠিয়াছে, এ বিষয়ে সন্দেহ নাই। বরঞ্জীর মধ্য দিয়া অসমীয়া গদ্যও সম্পণে রপ পাইয়াছে। ডাঃ গ্রিয়ারসন লিখিতেছেন— The Assamese are justly proud of their national literature. In no department have they been more successful than in a branch of study in which India as a rule is curiously deficient. The historical works of Buranjis are numerous and voluminous. আসামে বরঞ্জৗগলি প্রধানতঃ কৌলবিবরণী হিসাবে অহমরাজগণ ও তাঁহাদের পাত্রমিত্র অমাতাদের কাহিনী। ঐতিহাসিকেরা এই কাহিনীগুলির বিচার-বিশ্লেষণ, করিয়া সাময়িক ঘটনাপাঞ্জের এক আলেখ্য প্রস্তুত করিয়া লইয়াছেন। সাহিত্যিক ও · রসবেত্তার বিচারেও এই বরঞ্জণীগুলি মাল্যবান। এই প্রসঙ্গে আসাম গভর্নমেন্টের Department of History e Antiquarian Studies fresora of ডাঃ শ্ৰীয়ান্ড স্যকুমার ভুঞার দান সম্বন্ধে কিছ না বলিলে বরঞ্জী সাহিত্যের কথা অসম্পণে থাকিয়া যায়। লোকচক্ষর অন্তরালে এই মনীষী প্রায় একক আসাম বরঞ্জী-সাহিত্যের সংগ্রহ সম্পাদনা ও আলোচনা করিয়া শধ্যে আসাম নয় সমগ্র ভারতবর্ষের ইতিহাসে কুটিবিচারের এক নতন দিক খালিয়া দিয়াছেন, তাহার সম্যক পরিচয় অনেকেই জানেন না। তিনি শধে ঐতিহাসিক নন, কবি, গল্পলেখক, প্রবন্ধকার এবং শধে অসমীয়া নয়, ইংরেজী ও বাংলাতেও লিখিয়া থাকেন। তাহার বড়ফুকনর গীত (বদনচন্দ্র বড়ফুকন, যিনি ব্রহমবাসীদের আসামে লইয়া আসেন), তাঁদার আসাম জীয়রী (রানী জয়মতী ও অন্য নারীদের পণ্যকাহিনী), পঞ্চমী, আমিমা, উষা, বিজলী, শিলা না হই ফল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য রসসটি। :