পাতা:অসমীয়া সাহিত্য.pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বতমান যুগ ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত 6 (; রাজত্বকালে পদ্মনাভ শমা (মুকুলমোরিয়া গোস্বামী) কৃষ্ণরাম ভট্টাচাযৰ্ৰ আগমবাগীশ (পবতীয়া গোস্বামী) প্রভৃতি বাঙালীগণ বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে আসামে লইয়া আসিয়াছিলেন। ৬. ইহা ব্যতিরেকে তখনকার দিনে কলিকাতাই ছিল সমস্ত পাব ভারতের সং কেন্দ্ৰ—প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সভ্যতার মিলনভূমি এবং বাঙালী মনীষীদের দ্বারা প্রভাবান্বিত । ৭. ব্রিটিশ শাসনের প্রথম যুগে আসাম বাঙলার সহিত যুক্ত ও বাঙালীরাই রাজকাযে নিযুক্ত । ব্রিটিশ শাসনের আরম্ভের চারি বৎসরের মধ্যেই দেখি হোলিরাম ঢেকিয়ল ফুকন বাংলা ভাষায় আসামের ইতিহাস লিখিতেছেন। ১৮৩০ সালে লন্ডন হইতে প্রকাশিত এশিয়াটিক জানাল মে-আগস্টে ১৮৩০ খ্রীস্টাব্দে বরঞ্জী সম্বন্ধে শ্রীতারাচাঁদ চক্লবতীর (ইন্ডিয়া গেজেটের) এক সন্দীঘ সমালোচনা দেখি। এই প্রথম যুগে আনন্দরাম ঢেকিয়ল ফকেন, কাশীনাথ তামুলী ফুকন ও রাধানাথ বরবরয়া বিশিষ্ট লেখক। মণিরাম দেওয়ানের বিদ্রোহ ও তাঁহার লিখিত বরঞ্জী বিবেকরত্ন ইহাতে ইন্ধন জোগাইয়াছিল এবং ব্রাউন ও ব্র্যানসন প্রভৃতি ব্যাপটিস্ট মিশনরীদের আপ্রাণ চেটা অসমীয়া ভাষাকে নিজবাসভূমে পরবাসী না করিয়া আত্মপ্রতিষ্ঠিত হইতে সুযোগ দিয়াছিল। এই বরঞ্জী বিবেকরত্ন অসমীয়া ও বাংলা ভাষার মিশ্রণে লিখিত ও পরাতত্ত্ব বিভাগে রক্ষিত । আধুনিক অসমীযা সাহিত্যের প্রধান দিগদর্শন ১৮৪৬ খ্রীস্টাব্দে অরণোদয় প্রকাশ। এই বৎসরে আধুনিক অসমীয়া সাহিত্যের জন্ম বলা যাইতে পারে এবং এর বিকাশের ইতিহাস তাহার পরের একশত বৎসরের ইতিহাস । তাহার পর আসাম-বিলাসিনী, আসাম-মিহির, আসাম-দপণ, আসাম-দীপক, আসাম-নিউচ, জোনাকী, আবাহন প্রভৃতি সাময়িক পত্রিকায় কবিতা গল্প প্রবন্ধের প্রাচুর্য অসমীয়া সাহিত্যকে তাহার অদ্যকার পথানে লইয়া আসিয়াছে। আনন্দরাম ঢেকিয়াল ফুকন, গণাভিরাম বরয়ো ও হেমচন্দ্র বরয়া বিশেষভাবে সমরণীয়। সবলপায় ঢেকিয়াল ফকেনের নিবন্ধাবলী, হেমচন্দ্রের ‘হেমকোষ অভিধান ও অসমীয়া ব্যাকরণ ও ণোভিরামের সন্দভনিচয় উনবিংশ শতাব্দীর অসমীয়া সাহিত্যকে নব-জীবন দান করিয়াছিল। অভিমন্যবধ-কাব্য প্রণেতা রমাকান্ত চৌধুরী, পদাবরেঞ্জনী লেখক দ্য তিরাম, ভোলানাথ দাস, লম্বেবাদর বরা, রত্নেশ্বর মহাত, সত্যনাথ বরা, সাহিত্যসম্রাট লক্ষীনাথ বেজবরয়া, চন্দ্রকুমার ও আনন্দ আগরওয়ালা, রজনীকান্ত বরদলৈ, হেমচন্দ্র গোস্বামী, বেণুধর রাজখোওয়া, পদ্মনাথ বরয়া, হলিরাম মহন্ত, পাণকান্ত দেবশমা, দগণপ্রসাদ দত্ত প্রভৃতি সাহিত্যিকগণ সমধিক প্রসিদ্ধ। অরণোদয়ই অসমীয়া ভাষায় প্রথম পত্রিকা ও সমালোচনী। সাহিত্য বিজ্ঞান ইতিহাস পরাতনী কথা ও পাশচাত্য সভ্যতার দানকে অসমীয়াদের গোচর করাইবার জনাই এই পত্রিকা মিশনরীদের দান । এই পত্রিকা সব শ্রেণীর মনে এমন আলোড়ন জাগাইয়াছিল যে ধনী নিধন অভিজাত ও সাধারণ সকলেই আগ্রহের সহিত এই পত্রিকা পাঠ করিত। এমন কি অজ্ঞ জনসাধারণ সব পত্রিকারই নামকরণ করিয়াছিল ‘অরণোদয়’ । এই যাগের সাহিত্যের সম্পণে বিচার-বিশেলষণ না করিলেও দু’একটি নিদর্শনে ইহার পরোগামিনী গতি ও চিন্তার ধারা, আঙ্গিকের পরিবতন ও রচনাশৈলীর বৈচিত্র্য, কোন দিকে চলিয়াছে তাহা বুঝা যাইবে।