পাতা:আখ্যানমঞ্জরী (দ্বিতীয় ভাগ) - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কৃতজ্ঞতা ও অকুতোভয়তা

আরবদিগের খলীফা[১] হারূল উব বশীদের, জাফর্ বরমীকী নামে, বিলক্ষণ কার্য্যদক্ষ, সাতিশয ধর্ম্মপরায়ণ মন্ত্রী ছিলেন। কোনও কারণে কুপিত হইয়া, খলীফা তাঁহার প্রাণদণ্ড করেন, এবং এই ঘোষণা করিয়া দেন, যদি কেহ মন্ত্রীর গুণকীর্তন করে, তাহার প্রাণদণ্ড হইবে। কিন্তু, এক বৃদ্ধ আরব, সতত, সর্ব্বসমক্ষে, মুক্তকণ্ঠে, মন্ত্রীর গুণকীর্তন করিতেন। এই বিষয় খলীফার কর্ণগোচর হইল, তদীয় আদেশক্রমে, ঐ বৃদ্ধ আরব, তাঁহার সম্মুখে নত হইলেন। তখন খলীফা, সাতিশয় রোষপ্রদৰ্শন পূর্ব্বক, তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কো্ন সাহসে আমাব অজ্ঞালঙ্ঘন কবিতেছ?

 খলীফার এই কোপপূর্ণ জিজ্ঞাসাবাক্য শ্রবণে, কিঞ্চিস্মত্র ভীত না হইযা, বৃদ্ধ বিনীত বচনে বলিলেন, ধর্মাবতার, যদি আমি, প্রাণভয়ে, মৃত মন্ত্রীর গুণকীর্তনে বিরত হই, তাহা হইলে, আমায় উৎকট অকৃতজ্ঞতাপাপে লিপ্ত হইতে হ্য়। অকৃতজ্ঞ বলিয়া, লোকালয়ে পরিচিত হওয়া অপেক্ষা, প্রাণত্যাগ করা ভাল। আমি অতি দীন ও সহায়হীন ছিলাম। আমায়, অধিক দিন, সপরিবারে অনাহারে থাকিতে হইত। সৌভাগ্যক্রমে, তাঁহার কৃপা-

  1. খলীফা- অধিপতি, যিনি সর্ব্ব বিষয়ে কর্ত্তৃত্ব করেন।