পাতা:আখ্যানমঞ্জরী (প্রথম ভাগ) - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৪

আখ্যানমঞ্জরী।

কহিতে লাগিলেন, বৎস। তোমার কোনও ভয় নাই, তুমি কি জন্য এত কাতর হইতেছ? আমি, এই খানে থাকিয়া, তোমার সকল কথা শুনিতে পাইয়াছি, শুনিয়া তোমার উপর কি পর্য্যন্ত সন্তুষ্ট হইয়াছি, বলিতে পারি না। তুমি দরিদ্রের সন্তান বটে, কিন্তু আমি কখনও তোমার তুল্য সুবোধ ও ধর্ম্মভীত বালক দেখি নাই, জগদীশ্বর তোমায় যে লোভ সংবরণ করিবার এরূপ শক্তি দিয়াছেন, তজ্জন্য তাঁহাকে প্রণাম কর ও ধন্যবাদ দাও। অতঃপর, সর্ব্বদা এরূপ সাবধান থাকিবে, যেন কখনও লোভে পতিত না হও।

 এই বলিয়া, তাহাকে অভয় প্রদান করিয়া, তিনি কহিলেন, শুন বৎস। তুমি যে এরূপে লোভসংবরণ করিতে পারিয়াছ, তজ্জন্য তোমাকে পুরস্কার দেওয়া উচিত। এই বলিয়া, কতিপয় মুদ্রা তাহার হস্তে দিয়া, কহিলেন, অতঃপর, তোমায় আর গৃহমার্জ্জন প্রভৃতি নীচ কর্ম্ম করিতে হইবে না, তুমি, বিদ্যা শিক্ষা করিলে, আরও সুবোধ ও সচ্চরিত্র হইবে, এজন্য কল্য অবধি আমি তোমাকে বিদ্যালয়ে নিযুক্ত করিয়া দিব, এবং অন্ন বস্ত্র পুস্তক প্রভৃতি সমস্ত আবশ্যক বিষয়ের ব্যয় নির্বাহ করিব। অনন্তর, তিনি হস্তে ধরিয়া তাহাকে উঠাইলেন, এবং তাহার নয়নের অশ্রুজল মার্জ্জন করিয়া দিলেন।

 গৃহস্বামিনীর এইরূপ স্নেহবাক্য শ্রবণে ও সদয় ব্যবহার দর্শনে, সেই দীন বালকের আহ্লাদের সীমা রহিল না। তাহার নয়নযুগল হইতে আনন্দাশ্রু নির্গত হইতে লাগিল। সে, পর দিন অবধি, বিদ্যালয়ে প্রবিষ্ট হইয়া, যার পর নাই যত্ন ও