পাতা:আখ্যানমঞ্জরী (প্রথম ভাগ) - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ধর্ম্মপরায়ণতা।

ফরাসি দেশে এক বিলক্ষণ সঙ্গতিপন্ন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁহার বাটীর সন্নিকটে এক বৃদ্ধা বিধবা বাস করিত। অতিশয় দরিদ্রা, তাহার কতকগুলি অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ছিল। বৃদ্ধা অতি কষ্টে তাহাদের লালন পালন করিত। সচ্চরিত্রা ও ধর্ম্মপরায়ণা বলিয়া, সে আপন প্রতিবেশী এক সম্পন্ন ব্যক্তির বিলক্ষণ স্নেহপাত্র ও সম্পূর্ণ বিশ্বাসভাজন ছিল।

 ১৭৯২ খৃষ্টাব্দে, এক দিবস, তিনি সেই বৃদ্ধাকে আহ্বান করিয়া কহিলেন, দেখ, আমি, কোনও কার্য্যের অনুরোধে, কিছু দিনের জন্য, স্থানান্তরে যাইতেছি, ত্বরায় আমার প্রত্যাগমনের সম্ভাবনা নাই, আমার যে কিছু সম্পত্তি আছে, তোমার হস্তে ন্যস্ত করিয়া যাইতেছি, যদি প্রত্যাগমনের পূর্ব্বে আমার মৃত্যু হয়, এবং আমার পুত্র কন্যা না থাকে, তাহা হইলে, তুমি আমার এই সমস্ত সম্পত্তির অধিকারিণী হইবে, আর, যদি তৎপূর্বে অর্থের অভাব জন্য তোমার দুরবস্থা ঘটে, তাহা হইলে, এই সম্পত্তির কিয়ৎ অংশ লইয়া, ব্যয় করিতে পারিবে। এই বলিয়া, আপন সমস্ত সম্পত্তি বৃদ্ধার হস্তে সমর্পণ করিয়া, তিনি প্রস্থান করিলেন।

 বৃদ্ধা প্রতিদিন পরিশ্রম করিয়া যাহা উপার্জ্জন করিত, তদ্দ্বারা কোনও রূপে নিজের ও সন্তানগুলির ভরণপোষণের ব্যয় নির্ব্বাহ হইত। সেই সম্পন্ন ব্যক্তির প্রস্থানের কিছু দিন