কোট দেখিলে ‘খোট্টা’র ভিড় সরিয়া যায়— · কথাটা ঠিক! আমাকে দেখিয়া হিন্দুস্থানীর দল জড়সড় হইয়া বসিল। কেবল একটা লোক— চেহারাটা তার অতি বদখৎ—দুষমনের মত—বাঁ গালে লোমযুক্ত একটা মস্ত জড়ুল—আমায় দেখিয়া সে বলিল—“সাবলোক্ তো হিয়া কাহে?”
লোকটার কথাবার্ত্তায় বুঝিলাম, সে অনেক দিন কলিকাতায় কাটাইয়াছে। তাহার উপর কেমন ভারি রাগ হইতে লাগিল,—ভাবিলাম—দুষমনটা নামিয়া গেলে বাঁচি!
কিন্তু সে যেরূপ পরিপাটী আয়োজন করিয়া শয়ন করিয়াছিল, তাহাতে যে শীঘ্র তাহার নামিবার সম্ভাবনা আছে, এমন ত বোধ হইল না! আমি জিজ্ঞাসা করিলাম —“তোম্ কাঁহা যাওগে?”
লোকটা যেমন শুইয়াছিল, তেমন অবস্থায় থাকিয়াই আমার দিকে শুধু একবার বক্রদৃষ্টিতে চাহিয়া রুক্ষ স্বরে কহিল— “শিকোয়াবাদ।”
শিকোয়াবাদ! এই দুষমনের সহিত এটোয়া পর্য্যন্ত সাতশো কুড়ি মাইল যাইতে হইবে! আমার অন্তরাত্মা শিহরিয়া উঠিল। গাড়ি আসানসোলে পৌঁছিতেই আমি অন্য কামরায় চলিয়া গেলাম!