বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:আঙুর - পাঁচুলাল ঘোষ (১৯১১).pdf/১১১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
শেয়ালের ডাক
১০৩

‘টান’ করিতে লাগিলেন; তবে সেটা নারীহৃদয়ের মাহাত্ম্য কি কেনারামের নিজের গুণ তাহা বলা সুকঠিন।

 যাই হক, গৃহিণী কেনারামকে আপন সন্তানের ন্যায় দেখিতে লাগিলেন! কোন ভাল খাদ্যদ্রব্য আসিলে তিনি তাঁর ‘সতু’র জন্য যেমন তুলিয়া রাখিতেন তেমনি কেনারামের জন্যও না রাখিয়া থাকিতে পারিতেন না!

 চিরাগত প্রথার, গৃহিণী আমার ভৃত্য কর্ত্তৃক মাতৃ-সম্বোধনে ভূষিতা হইতেন বটে, কিন্তু গৃহিণীর স্বামীটিকে এপর্য্যন্ত কোন ভৃত্য পিতৃত্বের আসনে বসাইয়া গৃহিণীর উপরে কর্ত্তার স্বামীত্বের ‘রাইট্‌’টুকু সুস্পষ্টরূপে প্রতিপন্ন করিবার চেষ্টা করে নাই। কিন্তু কেনারাম আমায় পিতৃ-সম্বোধন করিয়া গৃহিণীর উপর আমার পতিত্বের ‘পাট্টা’ খানি আরো একটু বেশীরকম ‘কায়েমী’ করিয়া তুলিয়াছিল! বলা বাহুল্য ইহাতে সে আমারও একটু প্রিয় হইয়াছিল। দেখিতেছি, স্নেহ-সম্বন্ধের নকল ডাকেও কি একটা মাদকতা আছে!

 কেনারাম বেশ মনের স্ফূর্ত্তিতে চাকরী করিতে