নটু তার স্ত্রীর সৎকার করিয়া ঘরে ফিরিয়া অনেক দিনের পর নিশ্চিন্ত মনে খাতা খুলিয়া সুদের হিসাব করিতে বসিল! পাড়ার লোকে এবার অবাক হইয়া গেল। তখন বেলা গিয়াছে—‘ঘুগণীদানাওয়ালা’ নটুর বাড়ীর সম্মুখ দিয়া হাঁকিয়া গেল।—নটুর বুকটা অভ্যাসের বশে অমনি ছাঁৎ করিয়া উঠিল—কিন্তু তার মনে পড়িল আজ সে একা!—নিশ্চিত্ত! নটু হাপ ছাড়িয়া বাঁচিল। সে রাত্রে নটু চক্ষু মুদিল না—রাত দুইটা! শয্যা ত্যাগ করিয়া সে ঘরে আলো জ্বালিল। ভিতরদিক হইতে দ্বারে বড় বড় দুইটা তালা লাগাইল। জানালাগুলি বন্ধ করিয়া দিল। তারপর তার তিন পুরুষের সঞ্চিত অর্থরাশি লোহার সিন্দুক হইতে বাহির করিয়া শয্যার উপর রাখিতে লাগিল—কেবল মোহর আর বন্ধকী গহনা —টক্টকে সোণার স্তূপ! শয্যার দুই পার্শ্বে দুইটা আলো জ্বালাইয়া দিল—বিছানা ঝকঝক করিয়া উঠিল। নটু দুই হাত বক্ষে চাপিয়া আনন্দে উন্মত্তের ন্যায় কিছুক্ষণ অপলক নেত্রে সেই সোণার স্তূপের পানে চাহিয়া রহিল। তার পর একটা বিকট হাসি হাসিয়া স্ত্রীর নাম ধরিয়া সে ডাকিল-স্ত্রীর নাম করিয়াই সে চমকিয়া উঠিল। ভাবিল-পাগল হলুম
পাতা:আঙুর - পাঁচুলাল ঘোষ (১৯১১).pdf/১২২
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১৪
আঙুর