এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পূর্ণা।
সে ভাবিত—কেন এমন হ’ল? সে কি পাপ করিয়াছিল যে তার জীবনের প্রথম বসন্তে বিধাতা এমন নিদারুণ অভিশাপ ঢালিয়া দিলেন? কেমন করিয়া সে বিধবার জীবন বহিবে? শূন্যে মানুষ কেমন করিয়া দাঁড়াইয়া থাকে?
নিজের উপর কমলার ঘৃণা হইত—বিধবা হইয়া সে আজো তো বেশ বাঁচিয়া আছে? তার স্বামীর দেহ চিতার আগুনে ছাই হইয়া গিয়াছে কিন্তু তার অঙ্গের লাবণ্যে এতটুকু দাগ পড়ে নাই;—চাঁদ ডুবিলে আকাশে জ্যোৎস্নাও থাকে?
কমলা অহোরাত্রি মৃত্যু কামনা করিত! স্বামী বলিয়াছিলেন—“কমলা কেঁদ না—ননী রইল ওর মুখ দেখে জুড়োবার চেষ্টা কোরো!” হায়, চিতায় ছন্দনের ছিটা!
প্রাণের কামনা নাকি বিফল হইতে জানে না? মিথ্যা কথা! কমলা বিধবা হইয়া এই তিন মাস স্মরণ ভিন্ন আর তো কাহাকেও ডাকে নাই—ভাবে নাই, কিন্তু মরণ আসিল কই?
মরণ আসিবে না?—তবে, আত্মহত্যা? কিন্তু