বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:আঙুর - পাঁচুলাল ঘোষ (১৯১১).pdf/১২৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পূর্ণা
১১৯

 কমলা তার শিশু সন্তানটির পাশে বসিয়া উন্মুক্ত বাতায়নের পানে স্থির-দৃষ্টি!—যেন ধ্যাননিরতা! একটি বৎসর সে আজ যার প্রতীক্ষায় বসিয়া আছে, সে যেন আজ আর না আসিয়া থাকিতে পারিবে না—এমনি মন বলিতেছে! প্রকৃতির এ ভৈরব দৃশ্য দেখিয়া আজ কমলার মনে হইতেছে এত দিনে বুঝি আজ নিখিল বিশ্বের বৈধব্য বেদনারাশি এ শুভ মুহূর্ত্তে সম্মিলিত হইয়া জমাট বাঁধিয়া উঠিয়াছে—ওই অন্ধকার তারই ছায়া!

 দেখিতে দেখিতে কমলার দৃষ্টি নিস্তেজ হইয়া আসিল—অঙ্গ শিথিল হইয়া পড়িল—শেষে পৃথিবীর কথা সে ভুলিয়া গেল—সে যেন মহাশূন্যে!

 সহসা সে মহাশূন্য আলোকে ভরিয়া উঠিল! কমলা দেখিল তাহার সন্মুখে এক জ্যোতির্ম্ময় দিব্য পুরুষ। তিনি বলিলেন—“তুমি আমায় বড়ই ব্যস্ত করে তুলেছিলে!—এখন এস! - তোমার স্বামীর কাছে!”

 হঠাৎ কাহাকে কমলার মনে পড়িল— সে যেন পুলক-কম্পিত-কণ্ঠে বলিল—“প্রভু! তবে দয়া করে একটু অপেক্ষা করুন—আমি এখনি আস্‌চি!”