বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:আঙুর - পাঁচুলাল ঘোষ (১৯১১).pdf/১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০
আঙুর

 আমি বুঝিলাম, আমার কর্ণের প্রতি বিধবার দৃষ্টি পড়িয়াছে! আমি বাধ্য হইয়া বলিলাম—“একটু।” প্রিয়র মাতা সেইখান হইতে বধূকে উদ্দেশ করিয়া বলিলেন—“ও বৌমা! একটু ঝাল কম দিয়ো, বাছা? সুধীর ঝাল খেতে পারে না!”

 বেয়াদব অনুকূলটা অমনি বলিয়া উঠিল—“কেন আগে ত সুধীর খুব ঝাল খেত!”

 প্রিয়র মাতা আমার পক্ষ লইয়া বলিলেন— “চিরকাল কি আর এক অভ্যেস্ থাকে?”

 আমি বলিলাম—“ঠিক বলেচেন—মানুষের কি এক ভাব চিরকাল থাকে?”

 এমন সময় প্রিয় একখানা রেকাবী করিয়া গরম গরম চপ্‌ লইয়া উপস্থিত—একটু জড়সড় ভাব! ছড়ানো চুলের মাঝে, পাতার আড়ালে ফুলের মত মুখখানি!

 সহসা অনুকূলের মাতা বলিলেন—“হ্যাঁ বাবা সুধী, তুমি কি বিয়ে-টিয়ে করবে না? এখন ত যা হোক্‌ দু’পয়সা বেশ রোজগার কচ্চ?”

 সেই সময় প্রিয়র হাত হইতে একখানা চপ্‌ মাটিতে পড়িয়া গেল! দেখিয়া প্রিয়র মাতা কহিলেন —“আস্তে আস্তে দাও মা!—তাড়াতাড়ি করো না!”