করে সেই টাকা সুদে খাটানো ভাল! তা'তে কিছু কম লাভ হয়, সেও বরং ভাল, বিষয়-আশয়ের ঝঞ্ঝাট ঢের! এই দেখতেই তো পাচ্চো!”
কথাটা বিধবার নিকট কতকটা সমীচীন বলিয়া বোধ হইল, তিনি বলিলেন, “তুমি যা ভাল বোঝ, তাই কর—তুমি তো আর নন্দর পর নও!”
পরাণবাবুর চোখের পাতা ভিজিয়া উঠিল— তিনি আর্দ্রস্বরে কহিলেন, “দিদি, নন্দ যে আমার পরা নয়, তা কি আর বলে বোঝাতে হয়! ভাগ্নে আর ছেলেতে তফাৎ কি?—বিশেষ যখন অমন সোণার চাঁদ ছেলে! যে দেখে, তারই বুকে তুলে নিতে ইচ্ছা করে! কথাটা বলিয়া পরাণবাবু একটা দীর্ঘ-নিশ্বাস ফেলিলেন।
ইহার কিছু দিন পরে পরাণবাবু পশ্চিম যাত্রা করিলেন। ভগিনীপতির মৃত্যুর পর এই চতুর্থবার তাহার পশ্চিম যাত্রা। বাহিরে প্রকাশ—তাঁহার শরীর খারাপ।
বিষয় বিক্রয় হইল, কিন্তু তেমন দর উঠিল না—পরাণবাবু যে টাকা ব্যাঙ্কে জমা দিলেন। ভগিনীর অলঙ্কারাদি ইতিপূর্ব্বেই তিনি আপনার লৌহ সিন্ধুকের নিরাপদ গহ্বরে নিক্ষেপ করিয়া