বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:আঙুর - পাঁচুলাল ঘোষ (১৯১১).pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
হার-জিত
২৫

রাখিয়াছিলেন। সুদের টাকাটাও পরাণবাবুর ক্যাশবাক্সে আশ্রয় লাভ করিত, তবে, ভগিনীর প্রয়োজন হইলে পরাণবাবু টাকা লইয়া প্রস্তুত!

 তুলসী নিশ্চিন্ত, তাঁহার শিশুপুত্র নন্দলালও নিশ্চিন্ত! একজন নিশ্চিন্ত—গভীর বিশ্বাসে; আর একজন নিশ্চিন্ত—শৈশব-সরলতায়! শুধু নিশ্চিন্ত নহেন—পরাণবাবু!

 এইরূপে পাঁচ বৎসর কাটিয়া গেল। সেই সঙ্গে তুলসীর বৈধব্য-জানারও অবসান হইল! মৃত্যুকালে তুলসী পুত্রকে ভ্রাতার হস্তে জন্মের মত সঁপিয়া দিয়া গেলেন!

 তুলসীর মৃত্যুর পর হইতে পরাণবাবুর চক্ষু খুলিয়া গেল—তিনি ভাগিনেয়টীতে অনেক ত্রুটি দেখিতে লাগিলেন; সে দুরন্ত—উদ্ধত—অসহিষ্ণু—বুদ্ধিহীন—মিথ্যাবাদী—লোভী—বিলাসপ্রিয়, এবং উত্তরকালে যে সে একজন দারুণ দুর্দ্দান্ত লোক হইবে, পরাণবাবু যেন তাহা ভবিষ্যতের দর্পণে প্রতিবিম্বিত দেখিতে পাইলেন! পরাণবাবু যখন দেখিতে পাইলেন, তখন তাঁহার ‘উপগ্রহ’রাও যে না দেখিতে পাইবেন ইহা কোন মতে হইতেই পারে না।