জীবন-পথে।
১
যে বৎসর নীলরতনের ঘরের প্রদীপ অনেক রাত্রি ধরিয়া জ্বলিতে দেখিয়া বাড়ীর সকলে এবং পাড়ার অনেকে এক রকম স্থির সিদ্ধান্ত করিলেন, “নীলু এবার পাস হবেই”, সেই বৎসর নীলরতন ফেল হইয়া সকলের সিদ্ধান্তকে বিপর্য্যস্ত করিয়া দিল।
মেধাবী বলিয়া নীলরতনের এতদিন একটা খ্যাতি ছিল, এখন “কিছু না, শুধু ফক্কড়” বলিয়া সে অবজ্ঞাত হইতে লাগিল। নীলরতন কিন্তু পূর্ব্বের ন্যায় নির্ব্বিকার চিত্তে ফুটবল-ক্রিকেট পার্টিতে যোগদান, বারোয়ারীর চাঁদা আদায়, নাইট স্কুলের শিক্ষকতা এবং স্বগ্রামে লাইব্রেরী স্থাপন করিবার জন্য অর্থসংগ্রহ ইত্যাদি সমস্ত কার্য্যই করিয়া যাইতে লাগিল। নষ্ট গৌরব উদ্ধারের জন্য নীলরতনের পিতা নীলরতনের বিক্ষিপ্ত চিত্তকে এ বৎসরটার জন্য শুধু স্কুলপাঠ্য পুস্তকের মধ্যেই নিয়োজিত করিতে অনুরোধ করিলেন। কিন্তু নীলরতন আর দ্বিতীয়বার সরকারী সরস্বতীর দ্বারে ‘হত্যা’ দিতে