বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:আঙুর - পাঁচুলাল ঘোষ (১৯১১).pdf/৫১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দেনা শোধ
৪৩

করিলেও পুত্রের হৃদয়ে করুণার পুণ্য উৎসটি অঙ্কুরে শুষ্ক করিয়া দেওয়ার একান্ত বিপক্ষে ছিলেন।

 তিনি স্বামীকে বুঝাইতেন—স্বার্থ এ জগতের ভিত্তি নহে,—পরিচালকও নয়—এ জগত করুণা রচিত, করুণায় চালিত! যেমন আলোক, বাতাস ও সলিল না থাকিলে সৃষ্টি ব্যর্থ হইত, তেমনি করুণা না থাকিলে সংসার অরণ্য হইত! তবে কেন তিনি তাঁহার পুত্রকে করুণার ডাকে সাড়া দিতে নিষেধ করিবেন?

 লালমাধব ভাবিতেন, স্ত্রীজাতি একটু লেখাপড়া দেখিলে এমনি ‘জ্যাঠা’ হয় বটে! যাই হক্ অবশেষে লালমাধবকেই পত্নী-পুত্রের নিকট পরাস্ত হইতে হইয়াছিল!

 করুণার ডাকে সাড়া দিতে যাইয়া বিহারীকে এই-একবার যে বিপদে পড়িতে হয় নাই, এমন নয়। একবার—এক বৃদ্ধ তাহার পুত্রের কলেরা হইয়াছে বলিয়া পথের মাঝে বিহারীর পা জড়াইয়া কাঁদিতে লাগিল। বিহারী বৃদ্ধকে সান্ত্বনা দিতে দিতে তাহার সঙ্গে গিয়া শেষে আপনার ঘড়ি চেন হীরার আংটী ও চসমাখানি পর্য্যন্ত খোয়াইয়া আসিল!