বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:আঙুর - পাঁচুলাল ঘোষ (১৯১১).pdf/৫২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৪
আঙুর

 লালমাধব শুনিলে বিশেষ রুষ্ট হইবেন, এই আশঙ্কার বিহারীর মাতা গোপনে টাকা দিয়া অপহৃত দ্রব্যগুলির অভাব পূরণ করিয়া দিলেন।

 ঐ ঘটনার পর বিহারী প্রথম-প্রথম যেখানে সেখানে রোগী দেখিতে যাইতে একটু ইতস্তত করিত। বিহারীর মাতা কিন্তু পুত্রের হৃদয়ে আশীর্ব্বাদ ও আশ্বাস ঢালিয়া দিয়া বলিতেন “ভয় কি বাবা! তুমি পরের উপকার করে যাচ্চো, ভগবান তোমার সহায় হবেন! আমি তোমার মা, আমি আশীর্ব্বাদ কচ্চি -ভয় কি?”

 বিহারী মাতার এই গভীর আশ্বাস ও অমোঘ আশীর্বাদের অভেদ্য বর্ম্মে আচ্ছাদিত হইয়া অসঙ্কোচে নিঃসহায় দুঃস্থের সেবা করিতে যাইত!

 ইহাতে একজনের কিন্তু বড় অসুবিধা হইতে লাগিল! বিহারীদের পাড়ায় যদু বাঁড়ুয্যে নামে একজন ‘বিজ্ঞ’ ডাক্তার ছিল। রোগীকে অনর্থক দীর্ঘকাল হাতে রাখিরা প্রেস্কৃপ্‌শান্ লিখিতে এমন আর দ্বিতীয়টি দেখা যাইত না। তবে যদু ডাক্তারের ভিজিটের তেমন কামড় ছিল না—এক টাকাও লইত, আবার স্থল-বিশেষে আট আনাও লইত। ইহাতে যদু ডাক্তার আপনাকে একজন দয়ার সাগর