আসিয়া স্বল্পবর্ষণেই পরিসমাপ্ত হয়, বিহারীর সঙ্কল্প ও সেইরূপ হইল! বিহারী ত অনাথ দুঃখীদের ফেলিয়া অর্থের অন্বেষণে যাইতে পারে না! কিন্তু অর্থ আসা চাই, নতুবা কিসের উপর ভর করিয়া সে তাহার জীবনের এই পুণ্য ব্রতটুকু উদ্যাপন করিবে? কিন্তু সে অর্থ কেমন করিয়া আসে? কে তাহাকে কমলার আহ্বান-মন্ত্রটি শিখাইয়া দিবে?
হঠাৎ এক পুরাতন বন্ধুর সহিত বিহারীর দেখা হইল। সে বিহারীকে পরামর্শ দিল—রাতারাতি অগাধ টাকা আসিবার সোজা পথ— 'রেস্’ খেলা! বন্ধুর এই অমুল্য পরামর্শে বিহারী যেন কূল পাইল। একবার তাহার মনে আশঙ্কা হইল, যদি তাহাতে ক্ষতি হয়?—কিন্তু আবার তাহার মনে হইল, সে ত নিজের স্বার্থের জন্য রেস্ খেলিতে যাইতেছে না— তবে কেন তাহার ক্ষতি হইবে? বিহারী বুকভরা আশা লইয়া রেস্ খেলায় মন দিল।
মরীচিকা যেমন তৃষিত পান্থের লুব্ধ চিত্তকে মুগ্ধ করিয়া তাহাকে বিপদের মাঝে দ্রুততর টানিয়া লইয়া যায়, এই রেস্ খেলাও সেইরূপ কমলার ব্যর্থ ভক্ত বিহারীকে 'এক উৎকট নেশায় মাতাল করিয়া তুলিয়া ঘোর দারিদ্র্যের মাঝে দিন-দিন