এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৮
আঙুর
“হ্যাঁ, সবই ঠিক্ বলেচি—দেখো!”
কিয়ৎক্ষণ পরে তারা জিজ্ঞাসা করিল, “আর কিছু বেশী করে টাকা করলে না কেন”—
বিহারী তারার মুখের পানে চাহিয়া বলিল, “তারা এত আমার দান করা নয়! এ যে আমার দেনা শোধ হচ্চে!” তারা চুপ করিয়া রহিল। বিহারী জিজ্ঞাসা করিল, “তারা! গয়না তুমি বড় ভালবাস—না?”
তারা স্বামীর বুকে মুখ লুকাইয়া বলিল, “হ্যাঁ।” “স্বামীটির চেয়েও—না, তারা?”
তারা চুপ করিয়া রহিল।
বিহারী তারাকে জিজ্ঞাসা করিল, “তারা, দুদিন বাদে যদি বিধবা হও—তা হলে কি করে গহনা পরবে?”
বিহারী দেখিল, তারার চোখে জল। বিহারী কহিল, “না, তারা, কেঁদোনা - তুমি গয়না পোরো!”
দুই দিন থাকিয়া বিহারী চাকরান রাজষ্ট্রেটে চলিয়া গেল! যাইবার সময় বিহারী স্ত্রীর হাতে ‘পলিসি’ দুইখানি দিয়া—বাপের নামে বিশ হাজার, ও স্ত্রীর নামে পাঁচ হাজার—বলিল, “তারা, আমার দেনা শোধ হল।”