বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:আঙুর - পাঁচুলাল ঘোষ (১৯১১).pdf/৭১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
মাণিকলাল
৬৩

হরিমোহনবাবু ফকিরের ‘গোলায়’ গিয়া ঠিক করিলেন—পরদিন হইতে মাণিক তাঁহার ইস্কুলে বিদ্যা শিক্ষা করিবে।

 ফকির প্রথমটা ‘কিন্তু’ ‘কিন্তু’ করিয়াছিল— ভাবিয়াছিল তাহাকেই ইস্কুলের ব্যয় বহন করিতে হইবে। তারপর যখন শুনিল তাহাকে কোন ব্যয় বহন করিতে হইবে না তখন সে আর অসম্মত হয় নাই। কিন্তু জমিদারবাবু চলিয়া গেলে তাহার মনে পড়িল যে ইস্কুলে দিলে সে আর ছেলেকে কারবারে লাগাইতে পারিবে না। তখন সে বিশেষ ক্ষুণ্ণ হইল! —লেখাপড়া শিখিলে কি আর তাহার পুত্রের কাঠের কারবারে মন বসিবে?

 মাণিক ইস্কুলে যাইতেছে। এখনও সে পূর্ব্বের মত টিনের টেঁপিটি জ্বালিয়া সেইরূপ দুলিতে-দুলিতে পড়িতে থাকে, আর ফকিরচাঁদ হুঁকা লইয়া দেয়ালে ঠেস্‌দিয়া তামাকু পোড়ায়। মাণিক যখন ইংরাজী পড়ে, ফকির তখন হুঁকায় মুখ দিয়া এক কল্পনা রাজ্যে প্রবেশ করে—সে ভারিতে থাকে, আর দু’চার বৎসর পরে মাণিক, যখন একটু ইংরাজীতে কথা কহিতে শিখিবে তখন সে জমিদার মহাশয়কে বলিয়া কহিয়া কলিকাতার তাহার একটি চাকরী