বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:আঙুর - পাঁচুলাল ঘোষ (১৯১১).pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬৪
আঙুব

করাইয়া দিবে—ছেলে মাসে মাসে টাকা আনিবে, এখন সংসারে যে কষ্ট আছে তাহা আর থাকিবেনা। ছেলের মাহিনার টাকা জমাইয়া কিছু 'জমিজিরেৎ', করিবে বাড়ীর সম্মুখে যে জায়গাটা পড়িয়া আছে তাহাতে তরকারির বাগান দিবে, চাষের ধান, বাগানের তরকারী, ছেলের মাহিনার টাকা আর দোকান হইতে যা হ’ক্‌ কিছু আসিবে—কোন কষ্ট থাকিবেনা।

 মাণিক যখন ইংরাজী পড়িতে পড়িতে থানিয়া বাংলা ‘চরিতাবলী’ পড়িতে যায় ফকির অমনি বলিয়া উঠে “থাম্‌লি যে?—আর একটু ইংরিজী পড়্‌না!” ফকিরের ইচ্ছা মাণিক শীঘ্র ইংরাজী খানিকটা শিখিয়া ফেলে!

 কিন্তু মাণিক যখন তাহার পিতাকে বুঝাইয়া দেয় যে বাংলাও ভাল করিয়া গড়া দরকার, নতুবা তাহাকে ক্লাসে ‘নামিয়া’ যাইতে হইবে, তখন ফকিরচাঁদ দ্বিরুক্তটী না করিয়া পুত্রের ‘চরিতাবলী’পাঠ এক মনে শুনিতে থাকে। তাহাতে যখন সে শুনে যে, অতি দরিদ্রের সন্তানেরা বিদ্যার গুণে কালে পৃথিবীতে ‘বড়লোক’ হইয়াছে, তখন বৃদ্ধের মন আশার নাচিয়া উঠে।