বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:আঙুর - পাঁচুলাল ঘোষ (১৯১১).pdf/৭৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
মাণিকলাল
৬৫

 ক্রমে মাণিক বারো বছরে পড়িল! তাহার বহির মধ্যে ছবির সংখ্যা যত বাড়িতে আরম্ভ হইল, দোকানে আসিয়া বাড়ী ফিরিতে রাণীর তত বিলম্ব এদিকে রাণীদের বাড়ী মাণিকের হইতে লাগিল। নিমন্ত্রণ কোন মাস ফাঁক যাইত না।

 মাণিক রাণীর মাকে ‘মা’ বলিয়া ডাকে। আর রাণী মাণিককে ‘মাণিক দাদা’ বলে,—এটা হরিমোহন বাবুর শেখান! ছোটয় বড়য় এরূপ সম্বন্ধ হইতে যদিও খুব কম দেখা যায়, কিন্তু দেখিতে বড় ভাল। আকাশে মাটিতে মেশামিশি হইয়াছে বলিয়া সব জায়গায় বোধ হয় না বটে, কিন্তু যেখানে সেরূপ হইয়াছে বলিয়া বোধ হয়, সেখানটি দেখিতে বড় সুন্দর!

 এইরূপে সুখের দিনগুলি শুক্লপক্ষের রাত্রির মত বহিয়া যাইতে লাগিল। একদিন মাণিকলাল শুনিল—জমিদারবাবুর অতিথিশালায় একজন সন্ন্যাসী আসিয়াছেন— তিনি গণনায় পারদর্শী। দলে দলে বিস্তর লোক তাঁহার নিকট গণনা করাইতে যাইতেছে। মাণিকলালেরও বাইবার ইচ্ছা হইল। গিয়া দেখিল—বহু লোকের সমাগম হইয়াছে।

 সহসা সন্ন্যাসীর দৃষ্টি মাণিকলালের উপর পড়িল।