আদেশ পালন।
পরীক্ষায়, বহুবার ফেল্ হইলে ছাত্র যেমন সিদ্ধিলাভে হতাশ হইয়া পড়ে, আমার বিবাহের বিস্তর সম্বন্ধ ভাঙ্গিয়া যাওয়ায় উহাতে সিদ্ধিলাভ সম্বন্ধে আমিও সেইরূপ সন্দিহান্ হইয়াছিলাম। যাহা হউক বহুকাল পরে হঠাৎ একদিন একটি নূতন সম্বন্ধ আসিয়া উপস্থিত। ঘট্কী রূপবর্ণনা করিবার পূর্ব্বেই আমি মনে-মনে পাত্রীর ছবি আঁকিয়া ফেলিলাম— ত্রয়োদশ বর্ষীয়া বালিকা—রঙটুকু চাঁপা ফুলের মত—এক পিঠ কালো চুল, তাহার কতকগুলি গণ্ড বহিয়া বক্ষে পড়িয়া বাতাসে সর্পশিশুর মত খেলা করিতেছে-সুন্দর নিটোল ললাট, যেন আধখানি চাঁদ ফুটিয়া আছে-তুলিটানা বঙ্কিম ভ্রূরেখার নিম্নে দুইটি ডাগর চক্ষু-মধ্যভাগে “শুকচঞ্চুজিনি নাসা”— তাহার নীচে দুইখানি গোলাপের পাপড়ি—কিন্তু, হায়! আমার কল্পনার ছবিখানি শেষ না করিতেই ঘটক-ঠাকুরাণী তাঁহার ব্যবসা-ধর্ম্মের বিরুদ্ধাচরণ করিয়া বলিলেন, “পাত্রীটি সুশ্রী নয়, তবে, দেবে-থোবে ঢের, জামাইকে বিলেত