জাগিয়া দেখি দেবী “অমাবস্যা” আমার পদপ্রান্তে অন্ধকার ছড়াইয়া নিদ্রা যাইতেছেন।
এক মাস অতীত হইলে আমার বিলাত যাইবার আয়োজন হইতে লাগিল। বিলাত গমনের পূর্ব্বে একবার আমাকে শ্বশুরালয়ে যাইতে হইয়াছিল! যাইবার ইচ্ছা ছিল না—কিন্তু নেহাৎ খারাপ দেখায়, সেই জন্য গিয়াছিলাম, কিন্তু বড় ভয়ে ভয়ে! যদি আবার আমার “অন্ধকার” দেখা দিয়া সম্ভাষণ করিতে আসেন? তাহাকে দেখিলেই আমি যে তাহার স্বামী এই কথাটা আমার মনে আসিয়া পড়িত—আমার তাহাতে লড় লজ্জা ও অপমান বোধ হইত! ছিঃ ছিঃ আমি এই বিশ্বকুৎসিতাটার স্বামী!
শ্বশুরবাড়ীতে গিয়া দেখি সেখানে রাটিয়া গিয়াছে ‘অন্ধকার’কে আমার পছন্দ হইয়াছে। আমি অতি “সুবোধ” “সুশীল” ইত্যাদি নানাবিধ প্রশংসা-বাণী আমার উপর বর্ষণ করিয়া শ্বশুর বাড়ীর লোকেরা জানাইলেন যে, তাঁহাদের অন্ধকার মেয়েটিকে আমি হাসি মুখে গ্রহণ করিয়াছি শুনিয়া তাঁহারা পরম সুখী! আমি ত শুনিয়া অবাক! তাঁহারা যে আমাকে এইরূপ সৌন্দর্য্যজ্ঞানহীন ভাবিয়াছেন ইহাতে আমি মনে মনে বড়ই চটিয়াছিলাম—কিন্তু হাজার হোক্ তবু শ্বশুরবাড়ী!